আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বেলুচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বেলুচ মানবাধিকার কাউন্সিলের (বিএইচআরসি) উদ্যোগে বিদ্রোহীরা যখন বিক্ষোভ করেন তখন জাতিসংঘে মানবাধিকার পরিষদের ৫১তম অধিবেশন চলছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং সেদেশের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা সংঘটিত অপরাধের তদন্তের জন্য বেলুচিস্তানে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পাঠাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বাহিনী বেলুচ নাগরিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের অপহরণ, নির্যাতন এবং হত্যা করছে। বেলুচ, সিন্ধু এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাসিত নেতারা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। এ সময় তারা বেলুচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যার কথা তুলে ধরেন।
পরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। এতে তারা বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ‘কিল অ্যান্ড ডাম্প’ পলিসির তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পাঠাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তান শুধু নিজ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এমন নয় বরং তারা আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।
বেলুচ মানবাধিকার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সামাদ বালুচ বলেন, পাকিস্তানের দ্বারা সংঘটিত বর্বরতা এবং নৃশংসতার প্রতিবাদ করতে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। সত্যি কথা বলতে, পাকিস্তান বেলুচ, সিন্ধু এবং পাখতুন জনগণের জন্য একটি অভিশাপ।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান বেলুচিস্তানকে বেলুচ জনগণের জন্য নরক বানিয়েছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেলুচ জনগণকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আমরা এখানে বেলুচ জনগণের কথা ও তাদের অভিযোগ তুলে ধরতে এসেছি। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চাই।
বিক্ষোভকারীরা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা চেয়ে দাবি করেন যে, ১৯৪৭ সালের আগ পর্যন্ত তারা স্বাধীন জাতিই ছিল কিন্তু জোরপূর্বক তাদের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, ভারত কাশ্মীরে নৃশংসতা চালাচ্ছে বলে পাকিস্তান আওয়াজ তুলছে কিন্তু ঘোটকি, সিন্ধু এবং ওয়াজিরিস্তানে তারা নিজেরা কী করছে তা কেন বলছে না।
বিক্ষোভে উপস্থিতদের মধ্যে ড. নাসিম বেলুচ বলেন, যে পাকিস্তানি দখলদারিত্বের অধীনে বেলুচ জনগণ আজ অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো গুম এবং ‘হত্যা ও ডাম্প নীতি’।
সূত্র : এএনআই।
