নিজস্ব প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় স্থানীয় পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের আয়োজনে এবং এইচ.এস.বি.সি ব্যাংকের সহযোগিতায় সূর্যমণি প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খামারবাড়ি, সাতক্ষীরারর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথিন বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতির প্রসার, সূর্যমুখী উৎপাদন বৃদ্ধি, পতিত জমির কার্যকর ব্যবহার এবং উপকূলীয় কৃষকদের টেকসই আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সূর্যমণি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ শাহাবুদ্দিন শিহাবের সভাপতিত্বে কর্মমালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খামারবাড়ি সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), সাতক্ষীরা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, কেয়ার বাংলাদেশের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ফিউচারস প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ আবিদ উল কবির। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম এনামুল ইসলাম, তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আমিনুর ইসলাম, কলারোয়া উপজেলার জুগিখালী ইউনিয়নের কৃষক মনোয়ারা বেগমসহ অন্যান্যরা।
স্বাগত বক্তব্যে মোঃ আবিদ উল কবির বলেন, সূর্যমণি প্রকল্পের লক্ষ্য সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা উপজেলার পতিত ও মৌসুমি জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকদের টেকসই আয়ের পথ তৈরি করা। তিনি জানান, প্রায় ১০০০-১২০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত বীজ, সার, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলাই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সহায়তায় সূর্যমণি প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫৩৫টি কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে কলারোয়া ও তালা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১ হাজার ৩৩০ বিঘা পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষের জন্য উন্নত হাইব্রিড বীজ, জৈব ও রাসায়নিক সার এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬০০ পরিবারকে নিরাপদ ও পুষ্টিকর সবজি চাষের উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে পতিত জমি এখন লাভজনক উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে এবং বাজারজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কৃষকের আয় কয়েকগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষক মোঃ আমিনুর ইসলাম বলেন, ধান কাটার পর যে জমি পড়ে থাকত, এখন সেখানে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো লাভ হচ্ছে।
কৃষক মনোয়ারা বেগম বলেন, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার ফলে উৎপাদন বেড়েছে এবং সংসারের খরচ মেটানো সহজ হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. কামরুজ্জামান বলেন, উপকূলীয় লবণাক্ত ও প্রতিকূল পরিবেশ উপযোগী সূর্যমুখীর উন্নত জাত উদ্ভাবনে বিনা কাজ করছে, যা এ অঞ্চলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ফলন নিশ্চিত করবে।
খামারবাড়ি সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন খুবই কম। সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষক লাভবান হবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, কালারোয়া ও তালা উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ হলে কৃষকের আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি এসময় এই সূর্যমনি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আহবান জানান।
