হোম অন্যান্যসারাদেশ জমির বিরোধের জেরে আ”লীগ নেতা আজিজ কারগারে জনমনে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার তালায় ভুমিদূস্য খ্যাত শেখ আজিজ কারগারে যাওয়ায় জনমনে স্বস্থি ফিরে এসেছে। আজিজ তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের মৃত নছিমউদ্দীন শেখের ছেলে ও ইউনিয়ন আ”লীগ সাধারন সম্পাদক। গত ৩০ মার্চ সাতক্ষীরা চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার এ রায় ঘোষনা করেন। রায়ে তাকে এক বছর তিন মাস বিনাশ্রম কারদন্ড প্রদান করা হয়। মামলা নং-১৭০টি আর ৪৩৯ /১৭। মামলা রায়ের পর থেকে তিনি সাতক্ষীরা কারাগারে আছেন বলে আদালতের একটি দ্বায়িক্তশীল সুত্রে জানিয়েছে।

এলকাবাসী সুত্রে জানা যায়, আ”লীগ নেতা আজিজ এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে নিরহ মানুষকে জিম্মী করে চাঁদা আদায় করত। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় স্থানীয় রেজিষ্ট্রি অফিসে বেশ প্রভাব ছিল তার। সে দলের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার দলীয় অফিস বানানোর নামে এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে জমি ভোগদখল করে খাচ্ছে। এছাড়া সে নিরহ মানুষকে জামায়াত বিএনপির তকমা লাগিয়ে নিরহ মানুষকে হয়রানি সহ চাঁদা আদায় করত। তার ক্ষমতার দাপটে এলাকা লোক মুখ খুলতে সাহস পেতনা। এনিয়ে বেশ কয়েক বার থানায় অভিযোগ করলে অদৃশ্য কারনে তা নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

স্থানীয় গনমাধ্যমে কর্মীরা জানান, ভুমি দস্যু আজিজ ২০১৬সালে তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রেসক্লাবের জমি দখলের চেষ্টা চালায় ওই সময় বেশ কয়েকজন গনমাধ্যমকর্মী আহত হয়ে তালা থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। সাধারন ডায়েরী নং-৩৭১। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় তালা প্রেসক্লাব রক্ষা পায়।

নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক স্থানীয় এক আ”লীগ নেতা জানান, আজীজ দীর্ঘদিন যাবৎ দলের ছত্র ছায়ায় থেকে ভুমি জবর দখল, সরকারী টাকা লুটপাট, সম্পত্তি দখল সহ মানুষকে হয়ারানি করে কোটিপতি বনে গেছে। এনিয়ে ২০১৫ সালে তালা থানার উপ পরিদর্শক শিমুল দাস বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে থানায় একটি মামলা দ্বায়ের করেন। মামলা -১১/১৫। কিন্তু আজিজ স্থানীয় সংসদের সাথে সখ্যতার মাধ্যমে জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াত। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ওই মামলায় অভিযোগ পত্র দেয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত ২০২১সালে দলের সাধারন সম্পাদক পদে থাকার পরেও সে নির্বাচনে মোটর সাইকেল মার্কায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভরাডুবি ঘটায়। বর্তমানে সে কারগারে থাকায় স্থানীয়রা এলাকায় মিষ্টি বিতরন সহ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। আমি অচিরে এধরনের ভুমি দস্যুকে দিলীয় পদ থেকে অব্যহতি প্রদানের জন্য জেলা এবং উপজেলার নেতাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এবিষয়ে তালা উপজেলার শীর্ষ দুই আ”লীগ নেতার সাথে কথা বললে তার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নিবেন বলে জানান।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন