জাতীয় ডেস্ক :
দিনাজপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছেড়ে এখন নিজস্ব কার্যালয়ে চলছে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম। অফিস পরিবর্তন হলেও অনিয়মের পরিবর্তন হয়নি, বেড়েছে ভোগান্তি। বিভিন্ন অজুহাতে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকটে উভয়পক্ষ ভোগান্তিতে আছে। তবে সব ধরনের হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা দিতে পারে না অনেকেই। সকাল ৮টা থেকে আবেদন জমা নেয়া শুরু হলেও দুপুর সাড়ে ১২ টার পরে জমা নেয়ার কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিতে না পেরে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে নারী ও শিশুদের।
পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের অভিযোগ, নারী-পুরুষ-প্রতিবন্ধীদের তিনটি আলাদা লাইন থাকলেও আবেদন জমা নিচ্ছেন মাত্র একজন কর্মচারী। শতাধিক আবেদনকারী লাইনে দাঁড়ানো থাকলেও সাড়ে ১২ টায় কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়। একই চিত্র ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলার ক্ষেত্রেও। তবে দালাল বা কর্মচারীদের সন্তুষ্ট করলে পেছন দরজা দিয়ে সহজে কাজ হয়ে যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসাররাও বাড়তি সুবিধা নিয়ে নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ আবেদনকারীদের।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, ‘সমস্যাগুলো জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। আশাকরি, অল্প সময়ের ব্যবধানে সমস্যার সমাধান করা হবে।’
দিনাজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘প্রতিদিন যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে তাতে এখন যা জনবল আছে তার দ্বিগুণ জনবল দরকার। কিন্তু আমরা অর্ধেক জনবল দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। ১৩ উপজেলার প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ পাসপোর্টের জন্য আসেন। মাত্র ৬ জন কর্মচারী দিয়ে কাজ করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানালেও কোনো সমাধান হয়নি।’
দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের জন্য ৬ জন কর্মচারী নিয়ে দিনাজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ মানুষ আবেদন জমা দিতে আসেন।
