হোম জাতীয় চাঁদার টোকেন না থাকায় অটোরিকশা পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ

জাতীয় ডেস্ক :

‘নিয়মিত চাঁদা না দেয়ায়’ রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের আগর বাগান এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসী’রা। শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অসামবস্তি কাপ্তাই সড়কের আগর বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য অটোরিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সমিতি।

অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই পাহাড়ি একটি সশস্ত্র সংগঠন রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কে চলাচলকারী সকল অটোরিকশার কাছে বাড়তি চাঁদা দাবি ও টোকেন রাখার নির্দেশ দিয়ে জোরজবরদস্তি করে আসছে। কিন্তু সড়কটিতে যান চলাচল খুব বেশি না হওয়ায় চালকরা দিনের রোজগার দিয়ে সংসার চালানোই দায়। তাই তাদের নির্দেশনা মানা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এ কারণে কয়েকদিন আগে সশস্ত্র সংগঠনটি আমাদের ছয়জন চালককে গাড়িসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়।’

‘পরে সেনা অভিযানের মুখে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। কিন্তু আজ (শুক্রবার) দুপুরে কয়েকজন সশস্ত্র পাহাড়ি যুবক আমাদের কামাল হোসেন নামে এক চালককে আটক করে মারধর করে এবং অটোরিকশাটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। চালক তার কাছে থাকা এক হাজার টাকা দিতে চাইলেও নেয়নি তারা। এর প্রতিবাদে আমরা এই সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি এবং সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

পাহাড়ের কোনো আঞ্চলিক দলকে দায়ী মনে করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাবু বলছেন, ‘আমরা এখনই নাম বলতে চাইছি না। প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখে এবং সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত বলব।’

তবে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি রাঙামাটির প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ‘এর সঠিক বিচার না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

পুড়িয়ে দেয়া অটোরিকশার চালক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘দুইজন যাত্রী নিয়ে রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই যাচ্ছিলাম আমি, কাপ্তাইয়ের কাছাকাছি আগর বাগান এলাকায় ৪ থেকে ৫ জনের পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমার গাড়ি থামিয়ে মাসিক টোকেন আছে কিনা জিজ্ঞেস করে। তারা মাসিক চাঁদার টোকেন না পেয়ে আমাকে গুলি করতে চাইলে আমি না মারার জন্য কাকুতি মিনতি করি। তাদের এক হাজার টাকা দিতে চাইলেও তারা তা না শুনে আমাকে মারধর করে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।’

কাপ্তাই ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গাড়িটি প্রায় পুরোই পুড়ে গেছে। আমরা যখন পৌঁছাই ততক্ষণে গাড়িটি পুরো বডি পুড়ে গেছে। ইঞ্জিনটি হয়ত সক্রিয় থাকতেও পারে।’

এ বিষয়ে রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। পুলিশ সেখানে গেছে। সবার সঙ্গে কথা বলে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন