হোম খেলাধুলা ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নয়, অপর্যাপ্ত ম্যাচই টেস্টে খারাপ খেলার কারণ: ডমিঙ্গো

খেলাধূলা ডেস্ক :

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর কেটে গেছে ২২টি বছর কিন্তু বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্স আটকে আছে এক জায়গাতেই। ওয়ানডে ক্রিকেটে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটিয়ে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারলেও টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে এখনো পারফরম্যান্স হতাশাজনক টাইগারদের। এর পেছনে অধিকাংশ ক্রিকেটবোদ্ধা দায় দেখেন দেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মান। তবে জাতীয় দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর মতে মানের চেয়ে বড় দায় পর্যাপ্ত ম্যাচের অভাব।

চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের কথাই ধরা যাক। টেস্ট সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ দল কোন ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় তো দূরের কথা একটা ম্যাচেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে পারেনি। দুই টেস্টের সিরিজে বোলাররা জ্বলে উঠলেও ব্যাটাররা ব্যর্থ। এক ইনিংসেও ৩০০ রানের ঘরে নিতে পারেনি স্কোর। এর আগে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজ বা দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠেও টেস্টে প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারেনি টাইগাররা।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ ডমিঙ্গোর মতে টেস্ট ও ওয়ানডে ফরম্যাটে পারফরম্যান্সের এই আকাশ-পাতাল পার্থক্যের পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যাপ্ত চার দিনের ম্যাচ না থাকাটাই বড় কারণ। তার চোখে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মানের চেয়ে ম্যাচের অপ্রতুলতাই বেশি ভোগাচ্ছে টাইগারদের।

তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো ফরম্যাটকেই আমি বিচার করব না। ছেলেরা অবশ্য যতগুলো চারদিনের ম্যাচ খেলে তা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো। হয়তো বছরে ৪-৫টা ম্যাচ খেলে।

ডিপিএল দিয়ে দেশের ক্রিকেটে হৈচৈ ফেলে দেওয়া এনামুল হক বিজয়ের উদাহরণ দিয়েই বিষয়টা তুলে ধরছেন কোচ। প্রায় বছরখানেক লাল বলে কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকার পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট খেলতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। পর্যাপ্ত লাল বলের ম্যাচ না খেলে টেস্টে ভালো করাটা কঠিন, এটাও মানছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিজয় টেস্ট দলে যোগ দিয়েছে, কিন্তু প্রায় এক বছর হয়ে গেল লাল বলে কোন ম্যাচ খেলেনি সে। এতদিন চারদিনের ক্রিকেট না খেলে টেস্ট ম্যাচ খেলা কঠিন। তাই মানের কথা বলব না, আসলে কম ম্যাচ খেলাই টেস্টের এই অবস্থার কারণ।’

টেস্টে ভালো করতে ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যাপ্ত চারদিনের ম্যাচের ব্যবস্থা করার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই দক্ষিণ আফ্রিকান বাকি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাচের সংখ্যার অপর্যাপ্ততা তুলে ধরলেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট লিগ (বিএনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) মিলিয়ে গড়ে ১০টি করে ম্যাচ থাকে। তবে একজন খেলোয়াড় সব মিলিয়ে গড়ে ৬-৭টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া – ইংল্যান্ড বা ভারতে একেকজন ক্রিকেটার গড়ে ১০-১২টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে থাকে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ বলেন, ‘খেলোয়াড়দের চারদিকের ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। তারা সম্ভবত যথেষ্ট খেলতে পারছে না। ইংল্যান্ডে একেকজন খেলোয়াড় বছরে ১৫-১৬টা চারদিনের ম্যাচ খেলে। দক্ষিণ আফ্রিকানরাও খেলে গোটা দশেক। অস্ট্রেলিয়ায় এই সংখ্যাটা বছরে ১১-১২টা। অথচ আমরা খেলি ৪-৫টা। বিজয়কে দেখুন, চারদিনের ম্যাচে সম্প্রতি খেলেনি কিন্তু টেস্ট দলে এসেছে। এভাবে খেলা কঠিন।’

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন