জাতীয় ডেস্ক :
পদ্মা সেতুর পর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এগিয়ে চলেছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। তবে খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটিয়ে খুলনার ভৈরব সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের কাজ ৯৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের মধ্যে থাকা রূপসা নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণ সম্পন্ন। ৯০ কিলোমিটার রেলপথের ৬১ কিলোমিটার বসানো শেষ হয়েছে। ৯টি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে দুটি আর ৯টি আন্ডারপাসের মধ্যে নির্মাণ হয়েছে দুটি। চলতি বছর ডিসেম্বরেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। এ রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা।
মোংলা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুলতান আহমেদ বলেন, ‘খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলে এর মধ্য দিয়ে রামপালেও দ্রুত মালামাল পৌঁছে দিতে পারব। মোংলার আমদানি-রফতানির মালামালও দ্রুত পৌঁছে দেয়া সম্ভব।’
খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন কিছু কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলাকে শহরের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ভৈরব নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে নানা জটিলতায় চলতি বছর এপ্রিলে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। আবার শুরু হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। এ অবস্থায় এ প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
খুলনার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, আশা করছি প্রস্তাবিত বর্ধিত সময় ২০২৪ সালের ২৯ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
ভারত সরকারের ঋণসহায়তা চুক্তির আওতায় খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। ১ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ খুলনা ভৈরব সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
