নিজস্ব প্রতিনিধি :
তালার খলিষখালীতে জমির বিরোধের জেরে আহতের নাটক সাজিয়ে দুই শিক্ষককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধুর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯জুলাই বিকালে উপজেলার টিকারামপুর গ্রামে। ঘটনার পর একাধিক বার শালিশী বৈঠক বাদী আপোশ হলেও মিথ্যা মামলায় শিক্ষকদের ফাঁসাতে পরবর্তীতে আদালতে মামলা করে মনোয়ারা বেগম নামে একগৃহবধু।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে একই এলাকার আব্দুল খালেক, মফিজুল ইসলাম, সেলিম সরদার গন দের সাথে প্রতিবেশী জামাল উদ্দীন সরদারের ছেলে এইচ এম এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমদাদুল সরদার (২৭) ও দোহার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শরিফুল সরদার(৩৪) এবং ভাই শহিদুল সরদারের(৩৮) সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
সরজমিনে গেলে ওই শিক্ষক শরিফুল সরদার জানান, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির বসত বাড়ির ভিতরে দশ শতক জমির ভিতরে আব্দুল খালেক দীর্ঘদিন যাবৎ জোর পূর্বক দখল করে ঘর নির্মান করে আসছে। এ নিয়ে বহুবার শালিশ দরবার বসলে তার কোন সুরাহ হয়নি। এছাড়া তারা পুকুর এবং বসত বাড়ির তিনশতক জমিও দখল করে খাচ্ছে ।
বিষয়টি নিয়ে আমরা মাস দুই আগে পাটকেলঘাটা থানায় একটি অভিযোগ করেছিলাম।এরপর পুলিশ আমাদের চলতি বছরের ২৪জুন জমিজমা মাপার নির্দেশনা প্রদান করে। ঘটনার দিন বিকালে আব্দুল খালেক সহ তার চাচাতো ভাই বিএন পি ক্যাডার সেলিম সরদার মোরশেদ সরদার এবং তার ছেলে মনিরুল সরদার, মালেক সরদার জোর পূর্বক আমাদের জমিতে বিচালী গাদা নির্মান করতে আসে। আমি স্ত্রী সহ ভাই এমদাদুল বাঁধা দিলে তারা আমাদের এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।
পরবর্তীতে আমার ভাই এমদাদুল মোবাইল ফোনে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠায়। তিনি আরো জানান, ঘটনার পর আব্দুল খালেকের স্ত্রী মনোয়ারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের হাতকেটে মিথ্যা মামলা সাজাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরবর্তীতে ২৩ জুন মনোয়ারা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করে।আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে পুলিশ ইনভেষ্টিকেশন বুরোর (পি বি আই) উপর তদন্ত ন্যাস্থ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে মামলার বাদী মনোয়ারা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জায়গায় প্রতিবছর বিচালী গাদা দিয়ে থাকি। আমরা যতবার সেখানে বিচালী গাদা দিতে যাই তারা আমাদের বাঁধা দেওয়া সহ পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে। ঘটনার দিন আমরা ঘটনাস্থলে পুনরায় বিচালী গাদা দিতে গেলে শরিফুল, ইমাদদুল আমাদের বাঁধা দিলে ওই সময় হতাহতের ঘটনাঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আমি এবং ছেলে ছাকিবুল হাসানকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠায়। আমি চারদিন চিকিৎসা শেষে সাতক্ষীরার আদালতে একটি মামলা করি। কিন্তু শালিশে আপোশ মিমাংশার বিষয়টি কৌশালে এড়িয়ে যান তিনি।
