আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের অন্যতম প্রধান দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। করোনায় পরপর দুবার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় অনেক এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) কর্মী কোরিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার চার্টার্ড ফ্লাইটে আবারও দেশটিতে ফিরতে শুরু করেছেন ইপিএস কর্মীরা।
আবারও স্বপ্নের দুয়ার খুলছে করোনার কারণে বাংলাদেশে আটকে থাকা ইপিএস কর্মীদের। মহামারির মধ্যে কোরিয়া সরকারের বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে পরপর দুবার কোরিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় পড়ে বাংলাদেশ। ফলে কোরিয়ায় প্রবেশ করা ইপিএস কর্মীদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করতে না পারায় মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন কর্মীরা। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে কোরিয়ায় আসতে পেরে খুশি তারা।
কোরিয়া সরকার বিদেশিদের প্রবেশ সহজীকরণ, কোরিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও বোয়েসেলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টায় আটকে থাকা ইপিএস কর্মীরা সাধারণ কিছু শর্ত মেনে কোরিয়ায় প্রবেশ করছেন।
চলতি মাসেই ৪১৩ জন ইপিএস কর্মী কোরিয়ায় প্রবেশ করেছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে কোরিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য আরও সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০০৪ সাল থেকে ইপিএসের আওতায় বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে কোরিয়া সরকার।
প্রতিবছর দুই থেকে তিন হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক এই কর্মসূচির আওতায় উপকৃত হচ্ছেন। বর্তমানে এই ব্যবস্থার অধীনে কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে, যা ছিল ২০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১৩তম বৃহত্তম রেমিট্যান্স উৎস দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। উচ্চ বেতনের কারণে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন এই ইপিএস কর্মীরা।
