স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) :
যশোরের কেশবপুরে ঘেরের মাটি বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে ঘের মালিকের সন্ত্রাসী হামলায় দুই জমির মালিক কৃষকসহ ৩ জন মারাত্মক জখম হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় কৃষক হুমায়ুন কবীর বাদি হয়ে ঘের মালিক জাহাঙ্গীর আলমসহ ৪ জনের নামে থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগদা গ্রামের আবুল কাশেমের বাগদার বিলে ১০ বিঘা জমির একটি মাছের ঘের রয়েছে। ৭ বছর আগে মাছের ঘেরটি লিজ নেয় বাগদা গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে ঘের মালিক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রথম বছরেই ঘেরের ক্যানেল ভেড়ী নির্মাণ করে মাছ চাষ শুরু করেন। এরপর জমির মালিক কৃষক আবুল কাশেমকে না জানিয়ে ওই ঘের মালিক ঘেরের মাটি বিক্রি করে দেয় শ্রীরামপুর গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী বাবলুর রহমানের কাছে।
এনিয়ে জমির মালিক কৃষক আবুল কাশেমের সাথে ঘের মালিক জাহাঙ্গীর আলমের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়সহ অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এরই জের ধরে গত ২৩ জুন বেলা ১১টায় ঘের মালিক জাহাঙ্গীর আলমসহ ৫/৬ জন যুবক লাঠিসোটা নিয়ে আবুল কাশেমের বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার ছেলে হুমায়ুন কবীরকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে মারাত্মক জখম করে। এতে আবুল কাশেমের একটি হাত ভেঙে যায়। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয় আবুল কাশেমের অসুস্থ স্ত্রী রেহেনা বেগম।
উপয়ান্তর না পেয়ে হুমায়ুন কবীর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কেশবপুর থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এলাকাবাসি আহত ৩ জনকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় কৃষক হুমায়ুন কবীর বাদি হয়ে ঘের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, তার সহযোগি শফিকুল ইসলাম লিন্টু, শফিকুল আলম পিন্টু ও মহিউদ্দীন সরদারকে আসামী করে থানায় অভিযোগ করেছেন।
কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি নিরসনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
