জয়দেব চক্রবর্ত্তী, কেশবপুর (যশোর) :
যশোরের কেশবপুরে ভালুকঘর আজিজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বোডির সভাপতি মনোনয়ন দীর্ঘ ৩ মাস ধরে ঝুলে আছে। ফলে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৪ শূন্য পদের নিয়োগ বন্ধ থাকায় শ্রেণীকক্ষের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ৬ মাস ব্যবধানে সভাপতি পদে ২ জনকে সুপারিশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এরফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে ১ একর ৬০ শতক জমির ওপর ভালুকঘর আজিজিয়া ফাজিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে ২২ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারি রয়েছে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি মাওলানা মোশারফ হোসেন অবসরে গেলে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য হয়। ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হাই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অপর শিক্ষক আজগর আলি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। যে কারণে অধ্যক্ষসহ ওই প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারির নিয়োগ প্রক্রিয়া অদ্যাবধি ঝুলে আছে।
এদিকে, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের গর্ভনিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। নিয়মিত কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি অভিভাবকদের সরাসরি ভোটে হায়দার আলী, মুনজুরুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় অত্র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গভর্নিং বোডি গঠন নীতিমালা অনুসরণ করে সভাপতি মনোনয়নে ৩ জন ব্যক্তির নাম রেজুলেশনে অন্তর্ভূক্ত করে ঢাকা আরবী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
ঢাকা আরবী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ কমিটি অনুমোদন দেয়ার আগেই ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকার মেম্বার ও কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন জাকারিয়ার সভাপতি পদের আবেদনের ওপর সুপারিশ করেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সে মোতাবেক কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেন। এ খবর জানতে পেরে ওই মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু সভাপতি মনোনয়ন বন্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরসহ ঢাকা আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ফলে থমকে যায় সভাপতি মনোনয়ন প্রক্রিয়া।
এ ঘটনার ৬ মাস পর গত ২০ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টুর সভাপতি পদের আবেদনের ওপর আরও একটি সুপারিশ করেন। যে কারণে অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের প্রায় ৪ মাস হতে চললেও অধ্যাবধি ঝুলে আছে সভাপতি মনোনয়ন। এলাকাবাসি ওই প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম বজায় রাখতে দ্রুত গভর্নিং বোডি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজগর আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কোন সভাপতি নেই। সভাপতি মনোনয়ন দ্বন্দ্বে প্রায় ৩ মাস প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারির বেতন ভাতার সরকারি অংশ বন্ধ ছিল। অবশেষে যশোর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে তা নিরসন হয়েছে। বর্তমান সভাপতি মনোনয়ন বিষয়ে ঢাকা আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে কি ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে তা জানি না।
