আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত ইউক্রেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্নেক আইল্যান্ড থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মস্কোর এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ইউক্রেনের বেশিরভাগ বন্দরই এখন রাশিয়ার দখলে। ফলে বন্দরগুলো থেকে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ হয়ে আছে। স্নেক আইল্যান্ড থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের মধ্যদিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি সহজ হবে।
এ ব্যাপারে মস্কো বলেছে, ইউক্রেনের বন্দরগুলো দিয়ে যাতে ফের খাদ্য রফতানি শুরু করা যায় সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে রাশিয়া। সেই লক্ষ্যেই ‘শুভেচ্ছার স্বারক’ হিসেবে স্নেক আইল্যান্ড থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার বিরুদ্ধে দেশটির শস্য রপ্তানি ঠেকাতে ইউক্রেনের বন্দর অবরোধ করার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডই বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটে অবদান রাখছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়া যে ইউক্রেনের বাইরে কৃষি পণ্য রপ্তানি করার জন্য একটি মানবিক করিডোর তৈরিতে জাতিসংঘের প্রচেষ্টাকে বাধা দিচ্ছে না, মস্কোর এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা অবশ্য এটাকে তাদের ‘সেনাবাহিনীর জয়’ হিসেবে দেখছেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা আন্দ্রি ইয়ারমাক রীতিমতো উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাবুম’! স্নেক আইল্যান্ডে রাশিয়ার আর কোনো রুশ সেনা নেই।’
এক টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করে জানায়, ‘সেখানকার কাজ সম্পন্ন করেছে রুশ সেনারা।
দ্বীপটি এক সময় রোমানিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল। এরপর ১৯৪৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রথম দিকে কৃষ্ণসাগরের সাপের দ্বীপ খ্যাত স্নেক আইল্যান্ড দখলে নিতে তোড়জোড় শুরু করে মস্কো।
একপর্যায়ে এটি আংশিক দখলে নিতে সক্ষম হয় রুশ বাহিনী। তবে থাকা রুশ সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছিল ইউক্রেনীয় বাহিনী।
সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রেটেজিক স্টাডিসের নৌ বিশেষজ্ঞ জোনাথান বেনথাম বলেন, যদি রাশিয়া ৬৬৩ মাইল প্রস্থের এ দ্বীপটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে তাহলে তা হবে রুশ বাহিনীর জন্য ‘গেম চেঞ্জার’।
তিনি আরও বলেন, ধরা যাক যদি রাশিয়া এই দ্বীপে এস-৪০০ মিসাইল ব্যবস্থা মোতায়েন করতে পারে তাহলে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের উত্তর-পশ্চিম দিকে দূর পাল্লার মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।
নৌ বিশেষজ্ঞ জোনাথান বেনথাম বলেন, এটি রাশিয়াকে হামলা ও রক্ষণাত্বক শক্তি দেবে। এর মাধ্যমে রাশিয়া বিমান হামলার বিষয় আগেই ধরে ফেলতে পারবে এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বিশেষ করে ওডেসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে।
তবে শেষ পর্যন্ত এসব পাশ কাটিয়ে স্নেক আইল্যান্ড থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিল রাশিয়া। ফলে কয়েক মাস আবারও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল কিয়েভ।
