আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছে সৌদি আরব।
বুধবার (১৩ জুন) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ঢাকায় সৌদি আরবের দূতাবাস জানিয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছে সৌদি সরকার।
গত ৫ মার্চ দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় প্রায় ১২ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতির শিকার হন।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈশা ইউসেফ ঈশা আল-দুহাইলান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখব।’
২০১৭ সালে মিয়ানমার সরকারের দমন-পীড়ন শুরু করলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। সৌদি আরব দ্য কিং সালমান হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তা করে যাচ্ছে।
আল-দুহাইলান বলেন, কেএসরিলিফ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৪টি প্রকল্প পরিচালনা করে। তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
আল-দুহাইলান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ইনশাআল্লাহ, রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আরব নিউজকে বলেন, কক্সবাজারে শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই সেগুলোর কাজ সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ৪০০টি ঘর পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। সেগুলোর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
সৌদি আরবের এই সহায়তাকে রোহিঙ্গারা স্বাগত জানিয়েছে। কক্সবাজারের ২৮ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা মোহাম্মদ জামাল আরব নিউজকে বলেন, ‘কেএসরিলিফের এই উদ্যোগে রোহিঙ্গারা খুশি। সৌদি আরব সাধ্যমতো আমাদের সাহায্য করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সংকটে ভুলে না যাওয়ার জন্য আমরা সৌদি সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।’
