আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট সমাধানে একটা অভিনব প্রস্তাব দিয়ে সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার সিইও ইলন মাস্ক। এরপরও এবার চীন-তাইওয়ান সংকট মোকাবিলায় নতুন পরামর্শ নিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, তাইওয়ানের আংশিক নিয়ন্ত্রণ বেইজিংয়ের কাছে হস্তান্তর করে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
শুক্রবার (৭ অক্টোবর) দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই ধনকুবের বলেন, ‘আমার পরামর্শ হলো, তাইওয়ানকে হংকংয়ের মতো একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা। এটা যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে সম্ভবত এতে সব পক্ষ খুশি হবে না।’
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি দ্বীপ বা ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র বলে দাবি করে আসছে। তবে সম্প্রতি বেইজিং প্রকাশ্যেই বলেছে, তাইওয়ানকে তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একত্র করতে চায়।
চীনের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ান বলে আসছে, তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ জনতা তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তবে ইলন মাস্ক মনে করেন, এ ব্যাপারে এমন একটি ব্যবস্থা করা সম্ভব যেটি হংকংয়ের তুলনায় কিছুটা সহনশীল হবে। চীনের সাংহাইতে ইলন মাস্কের টেসলা কোম্পানির একটি বড় কারখানা রয়েছে।
হংকংয়ের মতো তাইওয়ানে ‘এক দেশ, এক নীতি’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে চীন। তবে এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে তাইওয়ানের সবকটি প্রধান রাজনৈতিক দল। তাইওয়ানের জনগণও একে সমর্থন করে না, বিশেষ করে ২০২০ সালে বেইজিং জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপের পর থেকে।
এদিকে মাস্কের এই পরামর্শ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে দেশটির নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, মাস্কের উচিৎ একজন পরিষ্কার মাথাওয়ালা রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘হংকংয়ে কী হয়েছে তা পুরো পৃথিবী স্পষ্টভাবে দেখেছে। বেইজিংয়ের সর্বগ্রাসী শাসনের অধীনে হংকংয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রাণবন্ততা হঠাৎ করেই নেই হয়ে গেছে।’
এর আগে ইউক্রেন সংকট সমাধানে ক্রিমিয়াকে স্থায়ীভাবে রাশিয়ার হাতে সমর্পণ করে ইউক্রেনকে নিরপেক্ষতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন ইলন মাস্ক। তার এ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
