নিজস্ব প্রতিনিধি :
শিশু কন্যাকে কাছে পেতে সাতক্ষীরা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন বাবা আরিফুর রহমান জেমস। রোববার (৫ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত শুনানী শেষে মামলার বিবাদী সাবেক স্ত্রী মোসলেমা খাতুন মুন্নি ও তার বর্তমান স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
শিশুটির বাবা আরিফুর রহমান জেমস সাতক্ষীরা শহরের মধ্যকাটিয়া গ্রামের মৃত. আফজালুর রহমানের ছেলে। তিনি জানান, ২০১৪ সালে মধ্যকাটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে মোছলেমা খাতুন মুন্নির সঙ্গে পরিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্ত্রী মুন্নির স্বেচ্ছাচারিতা, উশঙ্খল ও অবাধ চলাফেরার কারণে দাম্পত্য সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে ২০২০ সালে।
দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে। যার বর্তমান বয়স প্রায় তিন বছর। বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে সন্তানের নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়াসহ পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে মেয়ে
নাফিজা জাহান জেমির যাবতীয় খরচ বহন করে আসছি। সম্প্রতি মুন্নী সাতক্ষীরার সমালোচিত ব্যক্তি ডোপ টেস্টে মাদকাসক্ত পজেটিভ মোস্তাফিজুর রহমানকে বিয়ে করেন।
আরিফুর রহমান জেমস আরও জানান, উশৃঙ্খল মাদকাসক্ত মোস্তাফিজকে বিয়ে করার পর মেয়ে জেমিকে আমার সঙ্গে দেখা করা নিয়ে তালবাহানা শুরু করে। মেয়েকে নিয়ে ইচ্ছামত বিভিন্নস্থানে বাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় মুন্নি ও মোস্তাফিজ।
বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করায় আমার মেয়ের জীবনটাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বার বার মেয়েকে ফেরৎ চাইলেও দিচ্ছে না। উল্টো ফেসবুক লাইভে এসে মুন্নি-মোস্তাফিজ আমাকে খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে। এসব ঘটনায় আমি মুন্নি ও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশান দাখিল করেছি। যার নং ৬৪৭/২১(সাত:)।
অভিযোগের বিষয়ে মোছলেমা খাতুন মুন্নি বলেন, আরিফুর রহমান আমার আগের স্বামী। সপ্তাহে তিন দিন সে বাচ্চাকে নিয়ে যায়। এখন বলছে আমি বাচ্চাকে তার কাছে দেই না। উকিল নোটিশ করেছিল এখন আদালতে মামলাও করেছে। এখানে মামলা করার কি হলো।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সেলিনা আক্তার বলেন, পিটিশানের শুনানী শেষে আদালত দ্বিতীয় পক্ষকে আদালতে জবাব দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানী হবে
এদিকে গত ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর আলোচিত বেস্টটীমের আডমিন মোস্তাফিজ পুলিশের হাতে আটক হয়। আটকের পর পুলিশের ডোপ টেস্টে মোস্তাফিজ পজেটিভ। এরপর দীর্ঘদিন কারাগারে কাটে একাধিক মামলার আসামী মোস্তাফিজের। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাদকাসক্ত মোস্তাফিজ। একপর্যায়ে মোছলেমা খাতুন মুন্নিকে ৩য় স্ত্রী হিসেবে বিবাহ করে।
অন্যদিকে মুন্নি পুনরায় বিবাহ করলেও আরিফুর রহমান জেমস নিজের শিশু কন্যা জেমির ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিয়ের পিড়িতে বসেননি।
