বাণিজ্য ডেস্ক:
পর্যাপ্ত পরিশোধিত লবণের সরবরাহ থাকলেও সিন্ডিকেট করে কোরবানির ঈদের আগমুহূর্তে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে দাম। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৭৪ কেজির বস্তা খাবার লবণে ২০ টাকা ও চামড়ার লবণে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক বছরে বস্তায় ৩০০ টাকা বাড়ায় চরম বেকায়দায় চামড়া ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম নগরীর মাঝিরঘাট। এখানে লবণের মিলগুলোতে পুরোদমে চলছে লবণের উৎপাদন। কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া এবং টেকনাফ থেকে আসা ক্রুডও পরিশোধিত হচ্ছে এখানে।
তবে কোনো রকম সংকট না থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট কারসাজিতে বাড়ছে লবণের দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি দুযোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ক্রুড লবণের ঘাটতি হওয়ায় দাম কিছুটা বাড়তি। পাশাপাশি রয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যও।
চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটের বাগদাদ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মো. হারুন বলেন, কোরবানির কারণে শ্রমিক সংকটে কমেছে লবণের উৎপাদন। পাশাপাশি লবণের বাড়তি চাহিদা থাকায় বেড়েছে দাম।
চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটের মেসার্স জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বাজারে আপাতত লবণের কোনো সংকট নেই। তবে কোরবানির চাহিদা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রভাবের কারণে লবণের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা খাবার লবণ ১ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১ হাজার ২৮০ টাকা। সেই সঙ্গে চামড়া সংরক্ষণের প্রতি বস্তা লবণ আগে ১ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে ১৫ টাকা বেড়ে ১ হাজার ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ গত বছর চামড়ায় ব্যবহৃত লবণের প্রতি বস্তার দাম ছিল মাত্র ৯০০ টাকা। এ অবস্থায় লবণের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, লবণের বাড়তি দাম কাঁচা চামড়ার ওপর প্রভাব ফেলবে। এতে বাড়তে পারে চামড়ার দাম।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম জানান, লবণের দাম নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা। এতে লবণ ও চামড়ার টাকা জোগাড় নিয়ে বিপাকে অনেকে।
উল্লেখ্য, বছরে বাংলাদেশে ১৮ লাখ মেট্রিক টন খাবার ও ৩ লাখ মেট্রিক টন চামড়ার লবণের চাহিদা রয়েছে। যার পুরোটাই মেটানো হয় দেশে উৎপাদিত লবণ দিয়ে।
