আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সৌদি আরব সফরের পর সবচেয়ে আলোচনায় এখন চীনা মুদ্রা ইউয়ান। বিবিসি, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সব সংবাদমাধ্যম বলছে, সৌদি সফরে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে ইউয়ানে তেল ও গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন শি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়বে ডলার। আর আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে ইউয়ান।
গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর কাছ থেকে রুবল ও ইউয়ানে তেল কিনতে শুরু করে বেইজিং। এতে একদিকে যেমন রাশিয়া লাভবান হয়, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে শক্তিশালী হয় চীনা মুদ্রা। এরপরই দীর্ঘ মেয়াদে ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রধান মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে চীন, যা প্রকাশ্যে এলো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের সৌদি আরব সফরে।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রিয়াদে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শি। এতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই আরব দেশগুলোকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে তেল ও গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেন তিনি। বলেন, তেল ও গ্যাসের মূল্য পরিশোধের জন্য তারা সাংহাই পেট্রোলিয়াম এবং ন্যাশনাল গ্যাস এক্সচেঞ্জকে ব্যবহার করতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পন্ন করতে এবং ডিজিটাল মুদ্রা সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও গভীর করতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পদ্ধতি গড়ে তুলবে চীন।
শি-র প্রস্তাব নিয়ে এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি আরব। তবে কয়েক বছর ধরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে রিয়াদ ও বেইজিং। শুরুতে দেশটি অল্প পরিমাণ তেল ইউয়ানে বিক্রি করতে পারে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাবে সৌদি আরব রাজি হয়ে গেলে রাতারাতি বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেবে। একদিকে মার্কিন ডলারের মান কমবে, অন্যদিকে চীনা মুদ্রা ইউয়ান আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সৌদি আরবের জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। বিশ্লেষকদের ধারণা, রিয়াদ ইউয়ানকে গ্রহণ করলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও তা অনুসরণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটও পরিবর্তন হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে। নানা ইস্যুতে এরই মধ্যে দেশদুটির মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
