আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলের মাকারিভ নামক একটি গ্রাম থেকে ১৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার সেনাদের গুলিতে তারা নিহত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে শনিবার (৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।
ইউক্রেনের প্রাভাদা ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরের মাকারিভ থেকে ১৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়র ভাদিম তোকারকে উদ্ধৃত করে তাতে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহের বেশির ভাগই গণকবর দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু মরদেহ রাস্তায় পড়েছিল। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তহবিল সংগ্রহের সময় মাকারিভে গ্রামপ্রধান ভাদিম তোকার তার গ্রামে এসব মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন।
মাকারিভ কিয়েভ থেকে প্রায় ৫০ কিমি (৩০ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় এ গ্রামে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ ছিল। রাশিয়ার হামলার পর এ গ্রামের লোকসংখ্যা ১ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। মাকারিভের প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। অনেক ভবন মেরামতের অযোগ্য হয়ে গেছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পর থেকে কিয়েভের আশপাশে ব্যাপক লড়াই হয় রুশ সেনা ও ইউক্রেনীয়দের মধ্যে। সম্প্রতি ওই অঞ্চল থেকে সেনাদের সরিয়ে নিয়েছে রাশিয়া। ফলে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ভয়ংকর সব তথ্য মিলছে প্রায় প্রতিদিন।
এর আগে বুচা শহরে রাস্তায় পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এর পর বরোদইয়ানকা থেকেও ২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের পার্লামেন্ট টিভিকে ভাদিম তোকার বলেন, ‘স্থানীয় কর্মকর্তারা মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে বলেন, রুশ বাহিনীর গুলিতে তারা নিহত হয়েছে।
ভাদিম তোকার বলেন, রুশ সেনারা গ্রামের প্রায় সব অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে বোমা হামলা চালিয়েছে। তারা হাসপাতাল এবং কিন্ডারগার্টেনসহ প্রায় সব অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। বিদ্যুৎ,পানি ও গ্যাস ছাড়াই আমাদের দিন কাটাতে হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্রাম থেকে অন্য অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। আমরা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। তবে কিছুদিন আগেই যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা সচল হয়েছে।
