আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিডনে ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে এবং সম্প্রতি আ’লীগ নেতা শরবত হত্যা মামলার প্রধান আসামি (পলাতক) চোরয়ম্যান শাহনেওয়াজ ডালিমের সভাপতিত্বে কাল্পনিক সাধারণ সভা সাজিয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ০৫.৪৪.৮৭০৪.০০১.০৭.০১৩. ১৮.২০.৫০২ নং স্মারকে সর্বসম্মতিক্রমে মনোনিত প্যানেল চেয়ারম্যান বিপ্লব কান্তি দাশকে অপসারণ করে সম্প্রতি সুপার সাইক্লোন আম্পানের ত্রাণের ডিও, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত ১২এপ্রিল শরবত হত্যা মামলার প্রধান আসামি খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিমসহ ইউপি সদস্য হোসেন আলি, অনুপ কুমার সানা ও রামপদ সানা একই মামলার আসামি হওয়ায় সম্প্রতি করোনা”র’ ত্রাণ সামগ্রী ও সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রম, ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসার মীর আলিফ রেজা সকল ইউপি সদস্যদের ২১ এপ্রিল নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। সেখানে সার্বিক পর্যালোচনার পরে ইউপি সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে বিপ্লব কান্তি দাশকে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। যার স্মারক নং ০৫.৪৪.৮৭০৪. ০০১.০৭.০১৩.১৮.২০.৫০২ । কিন্তু গত ১৯ মে হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামীর সভাপতিত্বে দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কাল্পনিক সাধারন সভা সাজিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান বিপ্লব কান্তি দাশকে অপসারণ দেখানো হয়। যেটি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান বিপ্লব কান্তি দাশ আরও বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধ নগদ টাকা ও চাউল আমি যখন বিতরণ কাজ শুরু করি ঠিক সেই মুহুর্তে চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, নগদ টাকা এবং চাউল কিভাবে এবং কোথায় বিতরণ করছো ? উত্তরে আমি বলি, ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী চাউল এবং নগদ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করছি। এ সময় ডালিম ভাই আমাকে বলেন বিতরণ বন্ধ রাখ। আগে আমার সাথে যারা হত্যা মামলার আসামি হয়েছে পালিয়ে দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবারকে দেওয়ার পর যে পরিমাণ ত্রান অবশিষ্ট থাকে সেগুলো প্রত্যেক ওয়ার্ডে বিতরণ করে দাও। দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে তার কথার সাথে আমি একমত না হতে পারায় সে কাল্পনিক সাধারণ সভা সাজিয়ে আমাকে অপসারণের প্রস্তাব করে। একইসাথে নিজ নামে ডিও করে সুপার সাইক্লোন আম্পানের জন্য বরাদ্ধকৃত চাউলের ডিওসহ খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সামান্য পরিমাণ বিতরণ করে বাকিটা নিজে আত্মসাৎ করে। দেশের এ ক্লান্তিলগ্নে এ বিষয়ে আমি, ইউপি সদস্যবৃন্দ, এলাকার সাধারন মানুষ সঠিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান বিপ্লব কান্তি দাশের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার একটি অভিযোগ পত্র আমি পেয়েছি। আমি অভিযোগ পত্রটি জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর প্রেরণ করবো। সেখানে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
