জাতীয় ডেস্ক :
আর কিছুদিন বাদেই হয়তো কর্মজীবনে ঢুকতেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু রায় (২১)। কিন্তু সে সময় কোথায়, খুব তাড়া ছিল তার। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের টাকা বাকি, ছিল কর্মজীবনের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ছোটবোনের পড়াশোনার খরচের চাপ। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলে নিজেকে হয়তো ক্ষমা করতে পারেনি ছেলেটা। তাইতো মাত্র ২১ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। আত্মহত্যার মাধ্যমেই নিলেন জীবনের শেষ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়ায় নিজ বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অন্তু রায়ের পরিবারের দাবি, মাটির ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তু খুবই মেধাবী ছিল। কুয়েটের ড. এম এ রশিদ হলে অনেক টাকা বকেয়া হয়ে গিয়েছিল। গত রোববার অন্তু তার পরিবারের কাছে টাকা চায়। এ সময় তার মা তাকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছিল। এরপর সোমবার সকালে তার বাবা দেবব্রত রায় ও তার মা মাঠে কাজ করতে যান। বেলা ১১টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়ি ফিরে অন্তুর লাশ ঝুলতে দেখতে পায় তার ছোট বোন।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, সকালে ছোট বোন অন্তুর লাশ দেখতে পায়। মাটির ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। এলাকায় তিনি ভদ্র ছেলেই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে পরিবারের আর্থিক সংকট রয়েছে। আর্থিক অনটনের জের ধরেই হয়তো তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে, তার মৃত্যুর সংবাদ শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গত ৫ মাসে আত্মহত্যা করেছেন কুয়েটের তিন শিক্ষার্থী।
