জাতীয় ডেস্ক:
গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেছে আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন। বাংলাদেশের স্থপতির ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) আগরতলায় দুই পর্বে শোকাবহ পরিবেশে দিনের কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন।
প্রথম পর্ব
সকাল ৮টায় কুঞ্জবনে দূতালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকাল ৮টা ৫ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের শাহাদত বরণকারী সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা এবং সোয়া ৮টায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
দ্বিতীয় পর্ব
হোটেল সোনার তরীতে বেলা ১১টায় বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বাংলাদেশ থেকে আসা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম লোধ, ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইউ বি সাহা, ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শ্রী এস সি দাস, ত্রিপুরা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সিদ্ধার্থ শংকর দে, ত্রিপুরা রাজ্যের আইন সচিব শ্রী বিশ্বজিত পালিত, ত্রিপুরা উচ্চ শিক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর অরুনোদয় সাহা, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের মৈত্রী সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব স্বপন কুমার ভট্টাচার্যসহ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবার, আগরতলা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের পক্ষ থেকে ডিআইজি এল কে কে লাল, ত্রিপুরা চা বোর্ডের চেয়ারম্যান শ্রী সন্তোষ সাহা, আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়ন্ত ভট্টাচার্য, স্যান্দন পত্রিকায় পরিচালক শ্রী অভিষেক দে প্রমুখ।
শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। ছবি: সময় সংবাদ
এছাড়া ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশন, ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্রাণ বেভারেজ ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, অল ত্রিপুরা মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ডিভাইন টাচ মেডি-ক্লিনিক, ভারত-বাংলা মৈত্রী সংসদের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বেলা ১১টা ১ মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে সম্মানিত অতিথিরা ধারাবাহিকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বেলা সোয়া ১১টায় জাতির পিতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও কর্মধারার ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বেলা ১১টা ৪৫মিনিটে জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিশনের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মাদ।
সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মাদ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ১৯৭৫ সালের এ দিনে ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘৃণ্য ঘাতকরা এ দিনে আরও হত্যা করে জাতির পিতার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশু পুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, একমাত্র সহোদর বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, কৃষক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বেবি সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, সাংবাদিক শহীদ সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আবু নাঈম খানসহ পরিবারের আঠারো জন সদস্যকে।
জাতীয় শোক দিবসে তিনি সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদকে এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন। স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। তাই আসুন আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করি। তার আত্মত্যাগের মহিমা ও দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ আমাদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত করে সকলে মিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিজ্ঞা করি। জাতীয় শোক দিবসে এ হোক আমাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার।
এছাড়া সহকারী হাইকমিশনার ভারতের মহান স্বাধীনতার ৭৬তম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সমগ্র ভারতবাসী তথা ত্রিপুরাবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং স্বাধীনতার ৭৬তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারত সরকারের গৃহীত সব উদ্যোগের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের স্থানীয় নেতা, রাজ্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিক, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়িক নেতা এবং আগরতলা মিশনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ত্রিপুরার সব শ্রেণিপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
দূতালয় প্রধান মো. রেজাউল হক চৌধুরী তার ধন্যবাদসূচক বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়িত করা হয়।
