আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপের ব্যর্থ সশস্ত্র বিদ্রোহে অংশ নেয়া যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিয়েছে রাশিয়া। তাদেরকে কোনো শাস্তি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তাদেরকে তাদের অস্ত্র ফেরত দিতে হবে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়েছে এ খবর জানিয়েছে আরআইএ নভোস্তি।
প্রতিবেদন মতে, মঙ্গলবার (২৭ জুন) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াগনার বাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ভারী অস্ত্র-সরঞ্জাম ফেরত দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ওয়াগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের সঙ্গে চুক্তির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে ওয়াগনার বাহিনীর কাছ থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র প্রত্যাহার করে তা দিয়ে রুশ ন্যাশনাল গার্ডকে সজ্জিত করা হবে।
গত শুক্রবার (২৩ জুন) রুশ সামরিক নেতাদের উৎখাতের ডাক দিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ওয়াগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। পরদিন শনিবার (২৪ জুন) তার যোদ্ধারা ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো অভিমুখে অভিযাত্রা শুরু করে।
ওইদিন রাতেই বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কার মধ্যস্থতায় এ অভিযাত্রা বন্ধ করতে সম্মত হন প্রিগোজিন। সমঝোতায় বলা হয়, প্রিগোজিন বেলারুশে চলে যাবেন। বিদ্রোহের কারণে তার ও তার যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে।
বিদ্রোহ থেকে সরে আসার পর সোমবার (২৬ জুন) প্রথমবারের মতো একটি অডিও বার্তা দেন প্রিগোজিন। এতে তিনি দাবি করেন, পুতিনের সরকার উৎখাত তার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং প্রতিবাদ জানাতে মস্কো অভিমুখে যাত্রা করেছিল তার বাহিনী।
সোমবার (২৬ জুন) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন পুতিন। ভাষণে তিনি বিদ্রোহ থামাতে ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিনের সাথে মধ্যস্থতা করার জন্য বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোকে ধন্যবাদ জানান।
রক্তপাত এড়িয়ে যাওয়ায় ওয়াগনার যোদ্ধাদের ও এর প্রধান প্রিগোজিনকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ওয়াগনার বাহিনী চাইলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বেলারুশে ফিরে যেতে পারে। পারে বা বেলারুশে চলে যেতে পারে।
