হোম আন্তর্জাতিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়া পরমাণু-ক্ষমতাধর ডুবোজাহাজ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সঙ্গে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোটের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রযুক্তিতে ডুবোজাহাজ নির্মাণ করবে অস্ট্রেলিয়া।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে আঞ্চলিক ক্ষমতার প্রভাব-বলয় ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর সঙ্গেও কথা বলা হবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ফ্রান্স। বাইডেনও তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো আচরণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এক ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করেছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে দেখা দেওয়া চীনকে প্রতিরোধ করতেই তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এতে প্রথমবারের মতো পরমাণু-সক্ষমতার ডুবোজাহাজ নির্মাণ করতে পারবে অস্ট্রেলিয়া। যাতে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য মার্কিন প্রযুক্তির ব্যবহারও অকাস নামের এই চুক্তির আওতায় থাকছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গেল কয়েক দশকের মধ্যে এটি অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব।

তবে এ চুক্তিকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, এতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে।

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলছে, দেশগুলোর মধ্যে ঠাণ্ডাযুদ্ধকালীন মানসিকতা ও মতাদর্শিক পূর্বসংস্কার কাজ করছে।

তবে এ চুক্তি নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে বিবাদ তৈরি হয়েছে ক্যানবেরার। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের ১২টি ডুবোজাহাজ নির্মাণের একটি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-ইয়েভেস লি দ্রিয়ান বলেন, আমাদের সঙ্গে পিছন থেকে ছুরিকাঘাতের মতো আচরণ করা হয়েছে। এই নৃশংস, একতরফা ও অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত আমাদের সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। কারণ তিনিও এমন আচরণ করতেন।

তিনি আরও বলেন, এ বেদনাদায়ক সিদ্ধান্তে আমি ক্ষুব্ধ হয়েছি। মিত্রদের মধ্যে এমন আচরণ করা উচিত না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার স্কট মরিসনে মধ্যে একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে নতুন এই অংশীদারত্বের ঘোষণা এসেছে। যদিও চুক্তিতে চীনের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু তিন নেতা বারবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার উদ্বেগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই ডুবোজাহাজ বিশাল খরচের কোনো উদ্যোগ। এছাড়াও সাইবার সক্ষমতা ও সাগরতলের বিভিন্ন প্রযুক্তিও এই চুক্তির অংশ। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক সুযোগ। আমাদের যৌথ মূল্যবোধ, নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই মানসিকতা ও অংশীদারত্বের দেশ ত্রয়ীর জন্য এই চুক্তি বড় সুযোগ এনে দেবে।

লি ড্রিয়ান বলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন