নিজস্ব প্রতিনিধি:
টানা ৫দিন পর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন কবলিত বেঁড়িবাধের পাশে জিও টিউবের মাধ্যমে বিকল্প রিংবাধ দিয়ে অবশেষে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে এবং সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতায় আজ শুক্রবার দুপুর থেকে পানি লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ হয়েছে।
জানা গেছে, পানি উন্নয়নবোর্ড কর্তৃক নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন এবং সেনা বাহিনীর দুটি টিম বিগত তিন দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে জিও টিউবের মধ্যে বালি ভরে সেখানে বিকল্প রিংবাঁধ বাঁধার চেষ্টা করে আসছেন। আবশেষে আজ তারা রিংবাধটি বাধতে সক্ষম হয়েছেন। এরফলে শুক্রবার দুপুর থেকে ভাঙন কবলিত বেঁড়িবাধ দিয়ে আর লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে না। আর লোকালয়ে পানি ঢুকা বন্ধ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভাঙন কবলিত মানুষের মাঝে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো-২) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে জিও টিউব ব্যাগের মধ্যে বালি ভরে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে প্রাথমিকভাবে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। আরো কিছু জিও টিউব সেখানে দেয়া হবে। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে রিংবাঁধের নির্মাণের সকল কাজ শেষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে মূল বেঁড়িবাঁধ তৈরীর কাজ শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ ঈদের দিন সকাল ৯টার দিকে পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় দুই’শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ করেই খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মুহুর্তের মধ্যে গ্রামবাসীর ঈদের আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হয়। হাজার হাজার স্থানীয় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দফায় দফায় ভাঙ্গন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাধ নির্মাণের প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও তা জোয়ারের তোড়ে ব্যর্থ হয়। এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। পানিতে ভেসে যায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা মৎস্য ঘের এবং ২১ হেক্টর জমির ফসল। বিধ্বস্ত হয় শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি। বিদ্যুত বিহীন থাকে সেখানকার তিনটি গ্রাম। প্লাবিত এলাকায় দেখা দেয় সুপেয় পানির অভাব। একইসাথে মানুষের রান্না-খাবার, হাঁস-মুরগী ও গো খাবারের অভাব দেখা দেয়। বানভাসি মানুষ পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র ও পাউবো’র বাঁধে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নেন। পানিতে প্লাবিত হয় আনুলিয়া ইউনিয়নের নয়াখালী, বিছট, বল্লবপুর, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, চেচুয়া, কাকবাশিয়া, মীর্জাপুর, চেউটিয়াসহ আশপাশের ১০ গ্রাম। বর্তমানে বানভাসী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।