হোম আন্তর্জাতিক যেভাবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরাল হ্যাকাররা

জাতীয় ডেস্ক :

দেশে যখন ক্রিপ্টোকারেন্সির বৈধতা নিয়ে তর্কবির্তক চলছে তখন ডিজিটাল মুদ্রার ইতিহাসে সব থেকে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ক্রিপ্টোকারেন্সি টোকেন লেনদেন প্লাটফর্ম-পলি নেটওয়ার্ক থেকে ৬১ কোটি ডলার বা প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেছে হ্যাকাররা। এরপর ভার্চুয়াল মুদ্রা জগতে শুরু তোলপাড়।

পলিনেটওয়ার্ক কার্যক্রম মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সির সবচেয়ে বড় লেনদেন প্লাটফর্মগুলোর অন্যতম বাইন্যান্স স্মার্ট চেইন নেটওয়ার্কের ইথেরিয়াম ও পলিগন ব্লকচেইন নির্ভর৷ প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্লকচেইনগুলোর মধ্যে ‘স্মার্ট কনট্রাক্ট’ নির্ভর টোকেন চালাচালি করতে হয়, যার উপর ভিত্তি করেই এই ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন হয়।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে,পলিনেটওয়ার্কের একটি স্মার্ট কনট্রাক্টে বিশাল অঙ্কের তারল্য ছিল৷ হ্যাকারদের নজর পড়ে সেখানেই৷ পলি নেটওয়ার্ক টুইটে জানিয়েছে, হ্যাকাররা এই স্মার্ট কনট্রাক্ট এর একটি দুর্বলতা ধরে সিস্টেমে ঢুকে পড়ে৷ তিনটি ব্লকচেইনে ঢুকে লেনদেনের নির্দেশনাগুলো পাল্টে দেয় এবং টাকাগুলো তিনটি ওয়ালেট ঠিকানায় স্থানান্তর করে৷ ব্লকচেইন ফরেনসিক কোম্পানি চায়নালাইসিসের তথ্য বলছে, হ্যাকাররা ১২ টি ভিন্ন ভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অর্থ সরিয়েছে।

হ্যাকারদের চুরি করে নেয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানায় পলি নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে হ্যাকাররা যাতে চুরি করা অর্থ ক্যাশ করতে না পারে সেজন্য হয়।বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বাইনান্স’সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানায়।

বাইনান্সের সিইও চ্যাং পেং ঝাও বলেন, আমরা আমাদের সকল সিকিউরিটি পার্টনারদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবো বাকী অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে। কিন্তু অর্থ আনতে সফল হতে পারবো কিনা তার গ্যারান্টি দিতে পারবো না।

তবে নানা তৎপরতায় ইতোমধ্যে ৩৪ কোটি ডলার ইতোমধ্যে ফেরত দিয়েছে হ্যাকাররা। চায়নালাইসিস একজন কথিত হ্যাকারের ডিজিটাল বার্তা প্রকাশ করেছে। যেখানে ওই হ্যাকার দাবি করেছেন মজা করতে এবং সিস্টেমের দুর্বলতা দেখিয়ে দেয়ার জন্যই হ্যাক করেছেন তিনি। অর্থের প্রতি তার আগ্রহ নেই তাই টোকেনগুলো ফিরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা তার আগে থেকেই ছিল৷ তবে এখনো ২৭ কোটি ডলারের কোন হদিস পাওয়া যায় নি বলে জানিয়েছে ব্লকচেইন ফরেনসিক ফার্ম চায়নালাইসিস।

ক্রিপ্টোকারেন্সি মূলত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই দুজন ব্যক্তি ইন্টারনেটে একাউন্ট খুলে সরাসরি লেনদেন করতে পারেন। যারতথ্য ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে সংরক্ষিত থাকে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন