হোম আন্তর্জাতিক মিয়ানমারে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পরও হামলা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী

মিয়ানমারে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পরও হামলা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 12 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভয়াবহ ওই ভূমিকম্প দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। কিন্তু তারপরও সেখানে থেমে নেই জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত অঞ্চলেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘ অবশ্য এই হামলাগুলোকে ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, ‘ ভূমিকম্পের পর যখন মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, তখনও জান্তা বাহিনী বোমা ফেলছে—এটি অবিশ্বাস্য।’

জান্তা সরকারকে এখনই সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বলেছেন টম অ্যান্ড্রুস।

প্রায় চার বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা পুনর্দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী।

চার বছর পেরিয়ে গেলেও সামরিক বাহিনী এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

গত শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার। ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অর্থাৎ স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরের রাজ্য শানের নাউংচোতে বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি বার্মিজ।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো (যারা সামরিক শাসন উৎখাতের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে) জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলের চ্যাং-উ টাউনশিপে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই এলাকা ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। এছাড়া থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি এলাকাগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ভূমিকম্প-প্রভাবিত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বাহিনী রবিবার থেকে দুই সপ্তাহের জন্য ‘আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান স্থগিত করবে, তবে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালে এবং রাজধানী নেপিদো থেকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। নেপিদো ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ১৫০ মাইল দূরে অবস্থিত।

জান্তা সরকার বলেছে, এখন পর্যন্ত ১,৬৪৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সাগাইং অঞ্চলের বড় অংশ এখন গণতন্ত্রপন্থি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন