হোম অন্যান্যলিড নিউজ মনিরামপুরে সাবেক চরমপন্থি নেতা রফিক হত্যা মামলায় একজন আটক

মনিরামপুরে সাবেক চরমপন্থি নেতা রফিক হত্যা মামলায় একজন আটক

কর্তৃক
০ মন্তব্য 95 ভিউজ

মনিরামপুর(যশোর):

যশোরের মনিরামপুরে সাবেক চরমপন্থি নেতা রফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে দুপুরে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ হাদিউজ্জামান রানা নামে একজন পল্লী চিকিৎসককে আটক করেছেন। পুলিশের দাবি শুক্রবার তাকে আটক করা হয়। শনিবার দুপুরে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে পুলিশ তাকে আদালতে চালান দিয়েছে।

হাদিউজ্জামান রানা উপজেলার মধুপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। তবে রফিক হত্যাকান্ডে জড়িত পুলিশের প্রধান সন্দেহভাজন যুবক মুছাকে এখনও আটক করতে পারেনি।মামলার তদন্তকারী অফিসার মনিরামপুর থানার ওসি(তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মৃত আমারত আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের বর্তমান পেশা ছিল ইজিবাইক চালক।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে মধুপুর বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে সুন্দলী বাজারে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কুচলীয়া-দিগঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌছলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা রফিকুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর বুকে দুই রাউন্ড গুলি করে। পরে তার গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিরিনা খাতুন বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৬/৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার ভোররাতে পুলিশ হাদিউজ্জামানকে আটক করে। শনিবার দুপুরে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে পুলিশ তাকে আদালতে চালান দেয়। এ দিকে মামলার তদন্তকারী অফিসার শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, সাবেক চরমপন্থি নেতা রফিকুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যান প্রকাশ এবং অলিয়ার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। বর্তমান সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন।

রফিকুল স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। মধুপুর বাজারে আওয়ামীলীগের মধ্যে দুইটি গ্রুপ বিবদমান রয়েছে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন কলেজ শিক্ষক বুলবুল আহমেদ এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন পল্লী চিকিৎসক হাদিউজ্জামান রানা। আধিপত্য বিস্তরকে কেন্দ্র করে ৫ জুলাই রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী জাবের হোসেনের বাড়িতে বোমা হামলা চালায় হাদিউজ্জামান গ্রুপের মুছা, শিফনসহ বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনায় রফিকুল ও তার লোকজন প্রতিবাদ করেন। এছাড়াও গত ২ এপ্রিল মধুপুর বাজারে বুলবুল আহমেদ এবং হাদিউজ্জামান রানা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। রফিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসানসহ ১১ জনের নামে মামলা করেন। ধারনা করা হচ্ছে এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতেই খুন হতে পারে রফিকুল। মতিয়ার রহমান জানান, তদন্ত করে জানা-গেছে রফিকুল হত্যাকান্ডে চরমপন্থি কানেকশন রয়েছে। খুনিদের আটকের জন্য এলাকায় পুলিশের সাড়াশি অভিযান চলছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন