হোম জাতীয় বিজিবির রইশুদ্দীন হত্যা: শোকে স্তব্ধ স্ত্রী, সন্তানরা বুঝতে পারছে না কী হয়েছে!

বিজিবির রইশুদ্দীন হত্যা: শোকে স্তব্ধ স্ত্রী, সন্তানরা বুঝতে পারছে না কী হয়েছে!

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 152 ভিউজ

জাতীয় ডেস্ক:

বিজিবির সিপাহী মোহাম্মদ রইশুদ্দীনের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজনরা। তার ‍মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পরিবার। যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন রইশুদ্দীন। যদিও তার মৃত্যুর বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে পরিবারকে এখনও জানানো হয়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তারা জানতে পান, বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন বিজিবির সিপাহী মোহাম্মদ রইশুদ্দীন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিহত রইশুদ্দীনের আড়াই বছরের মেয়ে রাফিয়া এবং চার মাসের ছেলে হাসান বুঝতেই পারছে না বাড়িতে কী চলছে। দুইজনই স্বজনদের কোলে খেলা করছে।

দুই সন্তানের জনক রইশুদ্দীন সাড়ে তিন বছর আগে বিয়ে করেন নাসরিন খাতুনকে। দুই ছেলের কথা বলে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্ত্রী নাসরিন। বলেন, ‘আমার সব শেষ, কীভাবে থাকব। ডিউটিতে যাওয়ার আগের দিন আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার তাকে বারবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার সন্ধ্যা) আমাদেরকে প্রশাসন বা বিজিবি ব্যাটালিয়ন থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএসএফের গুলিতে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।’

রইশুদ্দীনের মা রুমালী বেগম বলেন, ‘রোবববার রাতেও ফোনে কথা হয়েছে। তখন সে জানায়, রাত ২টা থেকে ডিউটি আছে। কিন্তু তারপরে আর কথা হয়নি। শুনেছি, বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে। দুইটা বাচ্চা নিয়ে চরম বিপদে পড়ে গেছি। আমার ছেলে তো মরে গেছে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে তার মরদেহ ফেরত চাই। বিনা অপরাধে তাকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

নিহতের বাবা কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমার তিন ছেলে। এর মধ্যে দুই ছেলে বিজিবি ও এক ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। দেশের হয়ে কাজ করতে গিয়ে তাকে পরিচয় দেয়ার পরেও গুলি করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।’

যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জামিল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের ধান্যখোলা বিওপির জেলেপাড়া পোস্টসংলগ্ন এলাকায় ভারত থেকে গরু চোরাকারবারিদের সীমান্ত অতিক্রম করে আসতে দেখলে দায়িত্বরত বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এরপর তারা দৌড়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি টহল দলের সদস্য সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন চোরাকারবারিদের পেছনে ধাওয়া করতে করতে ঘন কুয়াশার কারণে দলবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায় তিনি বিএসএফের গুলিতে আহত হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এ ঘটনার পরপরই এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষীকে (বিএসএফ) বিষয়টির ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে তীব্র প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও মৃতদেহ বাংলাদেশে দ্রুত ফেরত আনার বিষয়ে সব পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন