সময়ের আলোচিত বিষয় corona virus disease (covid)19 এবং প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষিতঃসম্মানিত ডাক্তার সমাজ। পক্ষ বিপক্ষে হাজারো যুক্তি আলোচনা। অনেক বছর থেকেই আমার নিজস্ব ভাবনায় কর্পোরেট মিডিয়া ভাবনা এবং এর নেতিবাচক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকায় ছিলাম। ফলাফল জাতি পেতে শুরু করেছে, পেশাগত সাংবাদিকতা দিন দিন বড় বড় শিল্প গোষ্ঠীর পেটে ঢুকা মানে হল সর্বোচ্চ নীতি নৈতিকতার মানদণ্ডে থাকা একটা পেশাদার শ্রেণির পর্যায়ক্রমে অবনমন হতে থাকা যা পর্যায়ক্রমে মান নিচুই করবে। এতে কার কি হবে জানিনা একটি জাতির জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত। এতে সমগ্র জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দীর্ঘ মেয়াদে।
তেমনি আমাদের মেডিক্যাল সেকটরে জরাজীর্ণ সরকারী জৌলুসহীন হাসপাতালে সেবা দিবার বদলে চকচকা প্রাইভেট হাসপাতালের সৃষ্টি যত বাড়বে তত সরকারের ভবন গুলো কিছু ব্যক্তির ক্যারিয়ার গঠনের সাময়িক আশ্রয় কিংবা উপরে উঠার সিঁড়ি ব্যতীত আর কিছুই নহে। পক্ষে বিপক্ষে হাজারো যুক্তি দেয়া যাবে, শুধু কমিটমেন্ট সেবা প্রদানে বাধ্য করতে বা আটকে রাখতে পারে।
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে আমি ডাক্তারদের কোন দোষ এখনো দিতে পারিনা, যতটা দিতে হচ্ছে একটা সিস্টেমের প্রক্রিয়াকে। অনেক ঘনিষ্ঠ জন ডাক্তার আছেন, পুলিশ অফিসার হিসেবে অনেক বিখ্যাত ডাক্তারদের পাশে যাবার সুযোগ হয়েছে। অনেক কে সাক্ষাত ত্রাতা হিসেবে পেয়েছি। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কিংবা চট্টগ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকা কালীন, এর পর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব কালীন অনেক ডাক্তারের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশেছি। উল্লেখ করার মত খারাপ কিছু দেখিনি।
বর্তমানে করোনা সংক্রান্তে সাতক্ষীরায় অনেক সিনিয়র ডাক্তার সাহেবদের সাথে ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের সাথে কাজ করে। আমরা সবাই জানি একাডেমিক ভাল ফলাফল নিয়েই সবাই ডাক্তার হয়। একটা মাত্র পেশা আমার দেখা মতে সারাজীবন লেখাপড়া লেগেই থাকে একজন ডাক্তারের। লেখাপড়া আর কাজে এত বেশি ডুবে থাকে প্রতিজন ডাক্তার, তারা অন্য সার্ভিসের মত কুটকোশলী হতে পারেনা, রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ এরা খুবই কম বুঝে। আবার অন্য সার্ভিসের সাথে তুলনামূলক বিবেচনায় হতাশা তাদের অন্যদিকে ব্যস্ত রাখতে মস্তিষ্ক বাধ্য করে মর্মেই আমার মনে হয়।
বেশিরভাগ ডাক্তারকেই দেখেছি এক ধরনের সরলতা তাদের ঘিরে রাখে। এরা অন্যদের মত ধুরন্ধর নহে। ছাত্রজীবন শেষ করে সংসার জীবন, একটা গাড়ি, বাসা এর মাঝেই পৌঁছে যায় শেষ বেলায়। করোনা প্রসঙ্গে ডাক্তার সমাজের মুল ক্রাইসিস দেখেছি আমি তাদের লিডারশীপে। অন্যদের মত তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা, মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতার স্বল্পতা, ডেমো/ রিহার্সাল এর মারাত্মক অভাব ইত্যাদি।
অথচ তাদের সবকিছুই রয়েছে। জনবল, অবকাঠামো, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি। ইংল্যান্ড আমেরিকার মত দেশে এখনো করোনা রোগীর ডেমো রিহার্সাল অনবরত দিয়ে ডাক্তার নার্সদের পেশাগত ও মানসিক প্রস্তুতি দেয়া হচ্ছে। ডাক্তার নেতৃবৃন্দ যারা আছেন আপনারা চিকিৎসার থেকে ও বেশি দরকার সবাইকে ভালভাবে ব্রিফিং দেয়া, তাদের সুবিধা অসুবিধা সমূহ বিবেচনায় নেয়া। স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে ডাক্তারদের গাড়ির ব্যবস্থা থাকা জরুরী। অথবা অফিস থেকেই তাদের আসা যাবার সরকারি ব্যবস্থা থাকতে হবে।
পিপিই সুবিধা ইংল্যান্ড আমেরিকার মত পরাধিকার ঠিক করে দেয়া। যারা করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবে তাদের পুরো ইকুইপমেন্ট, অন্যদের আলাদা ব্যবস্থা। সেসব দেশেও সবাই পিপিই পায়নি,অনেকে নেয়নি, যাদের দরকার নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন সেসব পালন করা। আসলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলার আগেই এসব বিষয়ে ডাক্তার নেতৃবৃন্দ ব্যবস্থা নিতে পারতেন।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক ডাক্তারের বীরত্বের ইতিহাস রয়েছে, দেশের জন্য অনেকে শহীদ হয়ে অমরত্ব লাভ করেছে। ডা. শহীদ আলীম চৌধুরীর কথা ভাবুন, কত হাসিমুখে দেশের জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।
সর্বশেষ বলব আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। করোনার চিকিৎসায় হাসপাতালে কেন যাবেন, যদি সেখানে গিয়ে অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর না পান তবে তো বাসা ই উত্তম। অক্সিজেন ভেন্টিলেটর ছাড়া ডাক্তারের পক্ষে তেমন কি ই বা করার আছে। আর এ সুযোগ এখন উন্নত দেশেই পাওয়া অসম্ভব। তার থেকে ভাল বাসায় থাকুন, নিরাপদ থাকুন।
আমি ডাক্তার সাহেবদের বলব, আপনি আপনার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হতে পারেন তা ভেবেই ব্যবস্থা রাখুন। আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে যার যার অবস্থান থেকে। এখন দোষারোপ করার সময় নহে,এখন যুদ্ধ জয়ের কথাই শুধু ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে নগর পুড়িলে দেবালয় ও রক্ষা পায়না। রাস্তা ঘাটে লাশ পড়ে থাকলে আমরা ও তা থেকে রক্ষা পাবনা।
ভুলত্রুটি মার্জনীয়। লেখার যেকোনো সংশোধন পরামর্শ গ্রহণযোগ্য।
মোস্তাফিজুর রহমান পি পি এম বার
পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা
০৮/০৪/২০২০
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ….