আবওহাওয়া ডেস্ক:
শুষ্ক সময়ে ঢাকায় বায়ুদূষণ বাড়ে, আবার বৃষ্টি হলে তার ঠিক উল্টো চিত্র। বুধবার (৪ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টি হওয়ার প্রভাব পড়েছে বায়ুমানের উপরও। সকাল ১০টার দিকে মাত্র ৮৬ স্কোর নিয়ে ঢাকা ১৫তম স্থানে। গতকাল মঙ্গলবারের তুলনায় আজ দূষণের মাত্রা কমেছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী বাতাসের এ মানকে ‘মাঝারি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। গতকাল এর কাছাকাছি সময়ে ১০৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ছিল ১০ম।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের তালিকা অনুযায়ী, এ সময় বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ২০২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তানের লাহোর। এরপরই আছে দিল্লি; ১৬৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ভারতের এই রাজধানী শহর। ১৫৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে ভিয়েতনামের শহর হ্যানয়। আর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা আছে চতুর্থ অবস্থানে। ওই শহরের স্কোর ১৫৫। আর ১৫১ স্কোর নিয়ে মালয়েশিয়ার কুচিং আছে পঞ্চম স্থানে।
আজ ভোর থেকেই রাজধানীর অনেক জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব এখনও আছে। মেঘলা আকাশে এখনও পুরো রোদের দেখা পাওয়া যায়নি। এমন অবস্থায় ধুলোবালি কম উড়ায় ঢাকার বাসাতের মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে যায়নি। সকাল ১০টার দিকে ৮৬ স্কোর নিয়ে ১৫তম স্থানে রয়েছে।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়; আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এদিকে ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে; যেমন: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে থাকে। এটা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।