সৌরভ মন্ডল,দাকোপ :
খুলনার দাকোপে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। চলমান করোনার প্রভাবের মধ্যেও তরমুজের বাম্পার ফলন ও দাম পেয়ে এলাকার চাষিদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৫৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।
এছাড়া বাংগি, বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ হয়েছে আরও ৫৪১ হেক্টর জমিতে। বানিশান্তা, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, দাকোপ, বাজুয়া ও কামারখোলা ইউনিয়নে ব্যাপকহারে এফসলের চাষ হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০০ কৃষক এ আবাদ করেছেন। তরমুজ ক্ষেত বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
হরিণটানা এলাকার কৃষক সাধন কুমার মন্ডল জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়।
বিপরীতে তিনি ক্ষেত বিক্রি করেছেন দুই লাখ ৬০ হাজার টাকায়। করোনার প্রভাবের মধ্যেও তিনি ভাল দামে তরমুজ ক্ষেত বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি। তিনি সমিতির ঋনের টাকা পরিশোধ করেও লাভবান বলে জানান।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান বলেন এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘায় ৪০ টন পর্যন্ত ফলনে হয়েছে। করোনার প্রভাবে প্রথমে দুই একটি ক্ষেত কম দামে বিক্রি হলেও পরে অনেক ভাল দাম পেয়েছে কৃষকরা। তিনি বলেন ১০ টাকা করে কেজি ধরলেও এবছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে।
এবছর কৃষকরা ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় আগামীতে গোটা উপজেলায় আরও ব্যাপকহারে তরমুজ চাষের সম্ভবনা রয়েছে। তাছাড়া এলাকার কৃষকরা আগামী বছর আরও ১০/১৫ দিন আগে বীজ রোপন করলে বৃষ্টিতে আর ক্ষতি করতে পারবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ জানান করোনার সংক্রমণ ছড়াতে পারে চিন্তা করে প্রথমে বাহিরের ব্যাপারীদের বৈধ কাগজপত্র এবং ডাক্তারের সনদ নিয়ে এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। পরবর্তীতে কৃষকদের লোকসানের কথা ভেবে এবং সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসায়ীরা মালামাল ক্রয় করবে মর্মে উন্মুক্ত করা হয়।