এনামুল বাসার টিটো,ডুমুরিয়া:
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসমাগম হ্রাস ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে জনসমাগম হওয়া হাটবাজার গুলোকে স্থানান্তর করছে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ডুমুরিয়া উপজেলার অধিকাংশ মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মানায় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
গত এক সপ্তাহে উপজেলার অন্তত ১০টি হাটবাজার পাশ্ববর্তী স্কুল অথবা খেলার মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সামাজিক দূরত্ব মেনে এসব হাটবাজারে নিয়মিত দোকানপাট বসতে শুরু করেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলায় জনসমাগমের বড় হাটের মধ্যে রয়েছে ডুমুরিয়া বারোয়ানী বাজার, গুটুদিয়া বাজার,শরাফপুর বাজার,শাহাপুর বাজার,বরুণা বাজার,মিকশিমিল বাজার, খর্ণিয়া বাজার, কাঁঠালতলা বাজার,চুকনগর বাজার ও আঠারমাইল বাজার।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহানাজ বেগম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বড় জায়গা হচ্ছে হাটবাজার গুলো। এসকল হাটবাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এই হাটবাজার গুলোতে এখানকার মানুষ সামাজিক দুরত্ব না মেনে বাজারঘাট করে আসছিল। যা করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই উপজেলার অন্তত ১০টি হাটবাজার স্থানান্তর করে নিকটবর্তী স্কুল ও খেলার মাঠে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করেছি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাশ বলেন, গত সোমবার থেকে এসব হাটে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দশ ফুট দূরত্ব মেনে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করা শুরু করেছে। এখন মানুষজনও সামজিক দুরত্ব মেনে কেনাকাটা করতে পারছে।
এসব হাট সপ্তাহে দুদিন বসে থাকে। এর মধ্যে উপজেলার অন্তত ১০/১২টি হাটে বিপুল পরিমান মানুষের সমাগম হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে জনসমাগম সৃষ্টি। এই হাটবাজারগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে। এসকল হাটবাজারে সাধারণ মানুষ একেবারেই সামাজিক দূরত্ব মানছে না। সামাজিক দূরত্ব না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানাও করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল দিয়েও তাদের নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছে না। তাই আমরা জনসমাগমের হাটবাজারগুলোই যাতে সমাজিক দূরত্ব মেনে মানুষজন বাজারঘাট করতে পারে সেজন্য একেক হাটের বাস্তবতা বুঝে স্থানান্তর করতে শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত উপজেলার অন্তত ১০টি হাটবাজার নিকটবর্তী স্কুল ও খেলার মাঠে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।