হোম আন্তর্জাতিক গাজায় বৃহৎ অংশের দখল নিতে যাচ্ছে ইসরায়েল

গাজায় বৃহৎ অংশের দখল নিতে যাচ্ছে ইসরায়েল

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 159 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় সামরিক অভিযানের পরিসর বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, ব্যাপকহারে জনগণকে সরিয়ে দিয়ে এই এলাকাগুলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, লড়াই বিদ্যমান ছিল, এমন সব স্থান থেকেই জনগণকে সরানো হবে। এই অভিযানে গাজা থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী নির্মূল করা হবে এবং দখলকৃত এলাকাগুলো ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইতোমধ্যে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফা ও খান ইউনিসের আশেপাশে বসবাসকারীদের সতর্কবার্তা প্রদান করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মানবিক এলাকা হিসেবে নির্ধারিত উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসির দিকে তাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে গাজাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাটজ বলেছেন, গাজায় বসবাসকারী সবার কাছে আমার অনুরোধ- আপনারা হামাসকে নির্মূল করতে পদক্ষেপ নিন এবং জিম্মিদের ফেরত পেতে সহায়তা করুন। যুদ্ধ শেষ করার এটিই একমাত্র উপায়।

তার বক্তব্যের কিছুদিন আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায় একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, হামাসকে নিষ্ক্রিয় করা এবং বাকি ৫৯ জিম্মিকে ফেরত পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা।

কাটজের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবশ্য এটা স্পষ্ট নয় যে, কতটুকু ভূখণ্ড দখল নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর এবং তাদের এই দখলদারত্ব কী স্থায়ী না অস্থায়ী। যদি স্থায়ীভাবে তারা নতুন ভূমি দখল করে, তবে ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন গিশা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় সীমানার কাছে ইতোমধ্যে ৬২ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে সেনাবাহিনী। তাদের দখলীকৃত ভূখণ্ড গাজার মোট আয়তনের প্রায় ১৭ শতাংশ। ওই অংশটি বাফার জোন হিসেবে স্বীকৃত ছিল। যুদ্ধের সম্ভাবনা হ্রাস করার জন্য বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়, যেখানে সাধারণত সামরিক আগ্রাসন পরিচালনা করা হয় না।

ইসরায়েলি বাহিনীর দখলকৃত বাফার জোনে পানির কুয়া, পয়োনিষ্কাশন পাম্পিং স্টেশন, পানি শোধনাগারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। এছাড়া এখানেই রয়েছে গাজায় কৃষিচাষের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি। এগুলোর সুবিধা থেকে বাসিন্দাদের বঞ্ছিত করার অর্থ হবে গাজার টিকে থাকার লড়াইয়ে চাপ আরও বৃদ্ধি করা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সে থেকেই চলছে এই হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। মাঝে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে দু মাসের ক্ষণস্থায়ী এক যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও তা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

হামাসের ওই হামলায় অন্তত ১২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল বলে দাবি করে আসছে তেল আবিব। এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়ায় প্রায় অর্ধলক্ষ লোকের প্রাণহানিসহ পুরো গাজা বসবাস অযোগ্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন