হোম অন্যান্যসারাদেশ খুলনার কয়রায় ঘুর্নিঝড় আম্ফানে বাঁধ ভেঙ্গে ২৫গ্রাম প্লাবিত, লাখো মানুষ খোলা আকাশের নীচে

খুলনার কয়রায় ঘুর্নিঝড় আম্ফানে বাঁধ ভেঙ্গে ২৫গ্রাম প্লাবিত, লাখো মানুষ খোলা আকাশের নীচে

কর্তৃক
০ মন্তব্য 103 ভিউজ

খুলনা অফিস :
খুলনার কয়রা উপজেলায় ঘুর্নিঝড় আম্ফানের আঘাতে পানি উন্নয়ন বোডের্র বেড়িবা ভেঙ্গে ২৫গ্রাম প্রাবিত হয়েছে। উপজেলার কপোতাক্ষ, শাকাবড়িয়াসহ বিভিন্ন নদীর ২৪ টি স্থানে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিন বেদকাশী, মহারাজপুর, বাগালী, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রায় দুইলাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যারা এখন খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। এছাড়া ঝড় আর পানির প্রবল চাপে মুহুর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে অসংখ্য বাড়ী, ঘর ও গাছ পালা। তলিয়ে গেছে অর্ধলক্ষাধিক চিংড়ী ঘের। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফসল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বুধবার রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান খুলনার উপকূলে আঘাত হানার পরেই কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে লবণাক্ত পানি। কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের তসলিম মোল্যার বাড়ির সামনে, ছোট আংটিহারা গ্রামের বাকের গাজীর বাড়ি সংলগ্ন, দক্ষিণ আংটিহারা স্নুইজ গেটের পুর্ব পাশ হতে মুক্তিযোদ্ধা গিরীন সরদারের বাড়ি পর্যন্ত, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া এলাকা, কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা, কাটকাটা, মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা গ্রামের হামকুড়ুর গোড়া ও দশহালিয়া গ্রামের মজিবর মাষ্টারের বাড়ি সংগগ্ন পাউবোর বেড়ি বাঁধসহ উপজেলার কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী, দক্সিন বেদকাশী, মহারাজপুর, বাগালী, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ২৪টি পয়েন্টে বাধ ভেঙ্গে যায়। এতে নদীর পানির প্রবল তোড়ে প্রায় ২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা ও উচুস্থানে ছেলেমেয়ে ও পরিবার পরিজন এবং মালামাল নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। তবে অধিকাংশ মানুষ তাদের সহায় সম্বল রক্ষা করতে পারেনি। ভেসে গেছে পানির তোড়ে। এরপর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি তাদের দূর্ভোগকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
কয়রা ও পাইকগাছা সীমান্তবর্তী ২৩ নং পোল্ডারের লস্করের খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে ১৫ ফুট ও কড়ুলিয়ার আনিছ খার ঘের সংলগ্ন স্থানে ৪০ফুট বেঁড়িবাধ ভেঙে পোল্ডারে পানি প্রবেশ করলে শতাধিক ঘরবাড়ি ও বহু চিংড়ী ঘের তলিয়ে গেছে। এদিকে কালীনগরে ২ ফুটের উর্ধে ঝুকিপূর্ন বেঁড়িবাধ ভেঙে গোটা এলাকা লবন পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
তবে ইতিমধ্যেই সাইক্লোন শেল্টারে থাকা দূর্গত মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে বলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা জানিয়েছেন।তিনি আরও জানান, আম্ফানের প্রভাবে নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাতাসের তীব্রতা বেশি হওয়ায় অবেক স্থানে বেড়িবাধ ভেঙ্গে গেছে। আবার কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করায় এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে নদীর পানি ফুসে উঠায় এবং পাউবোর বেড়িবাঁধ নাজুক অবস্থায় থাকায় সদর ইউনিয়নের হরিনখোলাসহ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। সদর ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকা কপোতাক্ষ নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নের ৮০শতাংশ এলাকার মানুষ ক্ষতিগস্থ হয়েছে।
মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু জানান, কপোতাক্ষ নদীর পানি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকা গ্রামের হামকুড়ুর ও দশহালিয়া গ্রামে মজিবার মাষ্টারের বাড়ি সংলগ্ন পাউবোর বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় বেড়ি বাধ ভেঙ্গে নদীর লবানাক্ত পানি এলাকায় প্লাবিত হয়েছে । কয়েকহাজার মানুষ এখন খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছে। তাদেরকে সহযোগীতার চেয়ে সাধারন মানুষ এখন বেড়িবাধ মেরামতে করার দাবী জানাচ্ছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বিগত ঝড়গুলোর থেকে বেশি শক্তিশালী এবং এর স্থায়িত্বও বেশি। এই এলাকার ৫৫ টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই ঝুঁকির মধ্য ছিল। তার মধ্য ভয়ংকার ঘুর্ণিঝড় আম্ফান ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় নদীর জোয়ার অসম্ভব পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী, দক্সিন বেদকাশী, মহারাজপুর, বাগালী, মহেশ্বরীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি উন্নয়ণ বোডের্র বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমি সাবর্ক্ষনিক ভাবে এলাকায় অবস্থান করে মনিটোরিং করেছিু। আমরা যতদুর সম্ভব চেষ্টা করছি অতি দ্রুত ভেঙ্গে যাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ন বাধগুলো মেরামত করার।সকলের সহযোগীতায় কামমনা করছি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ঘুর্নিঝড় আম্ফানে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে খুলনায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়রা উপজেলায়। কয়রায় এক লাখ ৪৮হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। একই সাথে কয়রায় প্রায় অর্ধলক্ষ পরিবারের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক চিংড়ী ঘের ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই যেসব পরিবার খোলা আকাশের নীচে রয়েছেন তাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে ক্সতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদসহ সব ধরনের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া ভেঙ্গে যাওয়া বাধ মেরামতে প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি পানিউন্নয়ণ বোর্ডের প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলেছেন জানিয়ে বলেন, দ্রুতই ভেঙ্গে যাওয়া বাধ মেরামত করে ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষকে তাদের বাড়ীতে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন