খুলনা অফিস :
খুলনাসহ দক্সিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ আড়াই লক্ষাধিক চিংড়ীচাষীদের সরাসরি সরকারী প্রনোদনা দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির প্রধান খাত চিংড়ি শিল্পে করোনার প্রভাবকালে বর্তমান সময়ে সমস্যা সমাধান এবং সরকারীভাবে সরাসরি প্রনোদনা দেওয়ার দাবিতে মতবিনিময় সভায় জাতীয় চিংড়ি চাষী সমিতির নেতৃবৃন্দ এ দাবী জানান। তারা বলেন, করোনার প্রভাবে রপ্তানীর সুযোগ সুবিধা কমেছে, চিংড়ির খাবার সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে, ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা, কোম্পানি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি চাষীরা। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান না হলে চাষীরা সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসবে। চিংড়ির উৎপাদন ব্যাহত হবে ও রপ্তানি কমবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। মতবিনিময় সভায় জাতীয় চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ রফিকুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে ঘেরে বিদ্যমান চিংড়ির খাদ্য, বিভিন্ন প্রকার মিনারেল এবং রোগ প্রতিরোধে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোম্পানি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে চিংড়ির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চল খুলনা বাগেরহাট সাতক্ষীরা এবং কক্সবাজারের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হচ্ছে চিংড়ি। করোনার নেতিবাচক প্রভাবের কারণে যেসকল চাষীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগ করেছে তারা আজ হুমকির মধ্যে। বিনিয়োগকৃত পুঁজি অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগদ সহায়তা প্রদান ও স্বল্প মেয়াদে সুদ মুক্ত ঋণ প্রদান করে চলমান প্রকল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখার দাবি জানান চিংড়ী চাষী নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও চিংড়িঘের বা প্রকল্পে বিদ্যুৎ বিলের ভর্তুকি সুবিধা ও চিংড়ি চাষীদের জন্য নির্ধারিত প্রণোদনা সুবিধা কোম্পানির মালিকদের মাধ্যমে না দিয়ে মৎস্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরাসরি চাষীদের দেয়ার দাবিও জানান তিনি।এ সময় জাতীয় চিংড়ী চাষী সমিতির ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রউফ, মোহাম্মদ সেলিম, মোঃ তৈয়েবুর রহমান, ফকরুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।