হোম জাতীয় কোভিড-১৯ মে মাসে শেষ হবে’: বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় অন্য কিছুর ইঙ্গিত

কোভিড-১৯ মে মাসে শেষ হবে’: বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় অন্য কিছুর ইঙ্গিত

কর্তৃক
০ মন্তব্য 123 ভিউজ

অনলাইন ডেস্ক:

চলতি মাসেই বাংলাদেশ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দূর হয়ে যাবে বলে গত ২৭ এপ্রিল একটি গবেষণায় দেখিয়েছে সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন (এসইউটিডি) এর ডাটা ড্রিভেন ইনোভেশন ল্যাব। বিশ্বব্যাপী ভয়াল থাবা বিস্তারকারী এই ভাইরাস নিয়ে এ গবেষণাটি কতটা কার্যকরী হতে পারে তা বিশ্লেষণ করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও এমআইটিতে অধ্যয়নরত চার বাংলাদেশি গবেষক। পড়ুন তার বিস্তারিত:

গত ২৭ এপ্রিল দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে করোনাভাইরাসের অবসান সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন (এসইউটিডি) এর ডাটা ড্রিভেন ইনোভেশন ল্যাবের একটি গবেষণাকে উদ্ধৃত করে ওইসব খবরে বলা হয় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ১৯ মে মধ্যে ৯৭ শতাংশ কমে যাবে আর ৩০ মে’র মধ্যে কমবে ৯৯ শতাংশ। ভাইরাসের মতো করেই এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে যারা এপিডেমিওলজি এবং ডাটা সায়েন্স সম্পর্কে ন্যূনতম মৌলিক জ্ঞান রাখেন তারা বুঝতে পারবেন এই গবেষণা থেকে বৈজ্ঞানিক সত্যতার অবস্থান অনেক দূরে। কোভিড-১৯ বিস্তারের মডেল তৈরির চেষ্টায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ দলের অংশ হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই:

১. সিঙ্গাপুর যে মডেলটি ব্যবহার করেছে তা একটি টয় মডেল: আমাদের নীতিনির্ধারকরা যদি কোনোভাবে এ থেকে ধারণা নেন, তাহলে তার ফলাফল বিপর্যয়কর হতে পারে।

২. এই মহামারির সময়ে প্রত্যেকেই আগ্রহ নিয়ে একটি ভালো খবরের অপেক্ষায় আছে। সে কারণে এই ধরনের ভালো খবর ভাইরাল হয়ে যাবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে যে প্রশ্নটি সামনে আসছে তাহলো এই ধরনের প্রাথমিক পর্যায়ের (প্রি-পাবলিকেশন), পর্যালোচনাবিহীন, গবেষণার ফল প্রকাশ করার নৈতিকতা কতটুকু।

৩. বাংলাদেশে লকডাউনের কারণে কোভিড-১৯ বিস্তারের হার কমেছে, কিন্তু এটা নির্মূল থেকে এখনও আমাদের অবস্থান অনেক দূরে।

এই ধরনের মডেল কেন কেবল টয় মডেল?

মানুষের পারস্পারিক মিথষ্ক্রিয়া কোভিড-১৯ বিস্তারের মূল চালিকাশক্তি। ফলে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আমরা দুটি পর্যায় দেখতে পেরেছি। এক. লকডাউনের আগে: সবাই যখন উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে তখন ভাইরাসটি আশঙ্কাজনক হারে বিস্তার লাভ করেছে। দুই. লকডাউনের মধ্যে: মানুষ যখন খুব বেশি ঘুরে বেড়ায়নি তখন ভাইরাসটির বিস্তারের হার কমেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন