হোম খুলনাযশোর কেশবপুরে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক বন্ধ–সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

কেশবপুরে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক বন্ধ–সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 29 ভিউজ

স্টাফ রিপোর্টার:
হার্নিয়া রোগীর অপারেশনকে কেন্দ্র করে কেশবপুরের কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা ওই ক্লিনিকে যশোর, খুলনা থেকে আসা অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার শত শত রোগীরা। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন ক্লিনিকের ডাক্তার, নার্সসহ কমপক্ষে ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

জানা গেছে, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী স্থানে কেশবপুর উপজেলার অবস্থান হওয়ায় মনিরামপুর, কলারোয়া ও পাটকেলঘাটা থানার রোগীরা এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। রোগীর চাপের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি হাসপাতাল সড়কের দু’পাশে গড়ে উঠেছে ৭টি ক্লিনিক ও ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যশোর, খুলনার অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগী দেখছেন ও অপারেশন করছেন। সম্প্রতি কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের এক হার্নিয়া রোগীর অপারেশন করাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ফলে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত ক্লিনিকটির সেবা থেকে বিঞ্চত হচ্ছেন মুমূর্ষু রোগীরা। অনেকেই ক্লিনিক বন্ধ থাকায় সেবা নিতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের অপারেশন কক্ষ, ডায়াগনষ্টিক কক্ষ ও অন্যান্য ডাক্তারদের কক্ষ বন্ধ রয়েছে। তবে ক্লিনিকের ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা রিসিপশনে বসে আছেন। ক্লিনিকের মালিক রাশিদুল আলম লিটুর বলেন, বর্তমানে ক্লিনিকের নিয়মানুযায়ি ডাক্তার, নার্স মিলে ২৫ জন স্টাফ রয়েছেন। বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ডাক্তার বিভিন্ন সময় রোগী দেখেন ও অপারেশন করেন। গত ৬ মাসে এ ক্লিনিকে ৪ হাজার ৭৪২ জন রোগীকে আউটডোরে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। ক্লিনিকে প্রতিমাসে গড়ে ৯০ থেকে ১১০ জন রোগীর সিজার, নরমাল ডেলিভারীসহ অন্যান্য অপারেশন করা হয়ে থাকে।

ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে আসা বেতিখোলা গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, আমি হার্টের রোগী। কার্ডোলজি ডা. মাসুম বিল্লাহর চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী চলি। ক্লিনিক বন্ধ থাকায় সেবা নিতে পারছিনা। বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাণোর সামর্থ নেই। ক্লিনিকটি খোলা থাকলে সেবা নিতে পারতাম।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আলমগীর বলেন, আমি কেশবপুরে ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করছি। এখানে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে। তাদের সেবা মোটামুটি ভালো। তবে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় ত্রæটি থাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ত্রæটিমুক্ত হলে পুনরায় খুলে দেয়া হবে ক্লিনিকটি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন