শেখ এনামুল বাসার টিটো,ডুমুরিয়া :
করোনা সংক্রমণ রোধে মানুষকে ঘরমুখী করতে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহানাজ বেগম। মানুষের অসচেতনতার কারণে নিরলস চেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের।
প্রতিদিন তিনি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাশ,থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব সহ একদল সেনা বাহিনীকে সাথে নিয়ে উপজেলা সদর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে যেয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন।
অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কাওকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য এবং সকল সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। তারপরও মানুষের মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। প্রশাসন চলে যাওয়ার সাথে সাথেই হাট-বাজার গুলো জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে।
একারণে,ঔষধের দোকান,ক্লিনিক,হাসপাতাল ব্যতীত সবধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন বিকাল ৫ টার পর থেকে বন্ধ রাখার জন্য কঠোর আদেশ জারি করে ডুমুরিয়া উপজেলার সকল হাট-বাজারে মাইকিং করে ব্যবসায়িক সহ জনসাধারণকে অবগত করা হয়েছে। মানুষের অসচেতনতার কারণে মানুষকে ঘরমুখী করতে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের।
করোনা ভাইরাসের মহামারি রোধে সরকার ধাপে ধাপে সাধারণ ছুটি বাড়ালেও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ জনগণই সচেতনতার কর্ণপাত করছে না। শহর থেকে গ্রামে আসা মানুষ সহ উঠতি বয়সের ছেলেদের বাজারমূখি হওয়ার কারণেই জনসমাগমের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি শহরের চেয়ে কোনো অংশেই কমতি নেই গ্রামে।
মাইকিং ও লিফলেট বিতরণসহ নানা উদ্যোগ নিয়েও এখানকার মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনেকের জরিমানাও করা হয়েছে। ওয়াজ-মাহফিলসহ জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠানগুলোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রথম থেকেই জনগণকে সচেতন করে ঘরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে সমবেত হচ্ছে। শিশুরা সহ উঠতি বয়সী ছেলেরা ঘরে না থেকে দলবদ্ধ হয়ে মাঠে খেলাধুলা করছে।
ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসন দিন-রাত একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। জনসমাবেশ এড়াতে, মানুষদের ঘরমূখি করতে,হাট-বাজার ও গ্রাম-গঞ্জের দোকান-পাট বন্ধ রাখতে পুলিশের দিন-রাত নিয়মিত টহল চলছে। চায়ের দোকানে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই লোকজন নিয়মিত চলাচল করছে,চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। চায়ের দোকানে লোকের আড্ডা বসে বেশী। তাই আমরা লোকের আড্ডা ভাঙ্গতে চায়ের কেটলি জব্দ করতে শুরু করেছি। অনেক চায়ের দোকানের চুলা ভেঙ্গে দিয়েছি।
এ অবস্থায় এখনই গ্রামে গ্রামে এ মরণ ভাইরাস করোনা বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করাটা একান্ত জরুরি। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।