জামালউদ্দীন :
করোনা আজ মহামারী। সারা পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এর থেকে একটুও রেহাই পায়নি আমাদের ছোট্ট লাল সবুজের মানচিত্র বাংলাদেশ। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকার ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর বন্ধ করে দেয়া হয় সারা দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা। এ ছুটি দীর্ঘ করে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আজ পর্যন্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো বন্ধ রয়েছে। জরুরী ক্ষেত্রে কাঁচামাল, জরুরী ঔষধ, শিশুখাদ্য, ত্রাণ ইত্যাদিতে কিছু মালবাহী পরিবহণ চালু রয়েছে। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে একটি বড় অংশ গণপরিবহন শ্রমিক হিসেবে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কেমন আছে তারা ! এ তথ্যের অনুসন্ধানে ৪ এপ্রিল বিকালে সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজিঃ নং- ৭৬৪ এর সদস্য পাটকেলঘাটা থানার যুগিপুকুরিয়া গ্রামের রজব আলী মোড়লের পুত্র আবু সাঈদ (৩২) এর বাড়িতে খোঁজখবর নিতে যাই।
বাড়ির প্রবেশদ্বার থেকে এ শ্রমিক বাড়িতে আছে এবং ঘুমিয়ে এটুকু নিশ্চিত হতে পারি। একপর্যায়ে তাকে ডেকে আনা হয়। কথা হয়, কুশল বিনিময় হয়। কেন ঘুমিয়ে আছে জানতে চাইলে বলে কাজ নাই, কি করব ? কি খাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে জানায়, গত রাতে ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। এখন কি রান্না হয়েছে তা জানিনা। তার পিতা-মাতা, স্ত্রী সন্তানসহ ৫ জনের সংসার। তার স্ত্রী এ প্রতিবেদককে জানায়, সত্যিই নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছি।
পাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে চাল ধার করে কোনভাবে চালিয়ে নিচ্ছি। একই সময়ে একই গ্রামের ১ কিলোমিটার অদূরে সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজিঃ নং- ৫৫০ এর সদস্য আবুহারের বাড়িতে অনেক ডাকাডাকির পর তাকেও ঘুম থেকে ডেকে উঠানো হয়। কেমন আছে জানতে চাইলে বলে, সাংবাদিক সাহেব আমার বাড়িতে এসেছেন, সত্যিই আমার ভালো লাগছে। কেমন আছি জেনে কি হবে ! আমার দিন কিভাবে পার হচ্ছে আর সংসারটা কিভাবে চালাচ্ছে তা কেবল আমার স্ত্রী-ই বলতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী নির্মাণ শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, তালা উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু দাউদ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সরকারের মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ আজ করোনা ভাইরাসে সবাই ঘরে থাকছে। শ্রমজীবী মানুষগুলো ঘরে থাকতে তাদের যে কি কষ্ট হচ্ছে। তার খবর কি কেউ রাখে ? এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি সাইফুল করিম সাবু জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, পৌরসভায় পৌরমেয়র ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা করবেন।
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের কাদু এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, যেহেতু করোনা একটি মহামারী। তাই আমরা একত্রিত হতে না পারায় কারও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে না। অতিদ্রæত সকলের জন্য সরকারের পাশাপাশি আমরা সহযোগিতা করব। সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, আমার শ্রমিকরা অনেকটাই বেদুইন।
কোন মালিক তাদেরকে নিয়মিত চাকরীতে রাখে না। দেশের এমন দূর্যোগ আসবে জানতে পারলে শ্রমিকদের টাকায় ৪টি বাস না কিনে তাদের কল্যানের জন্য ট্রাস্ট গঠন করতাম। সরকারের কাছে করজোরে মিনতি এমন দুঃসময়ে আমাদের শ্রমিকদের পাশে একটু দাঁড়ান। সাতক্ষীরায় বেশ কিছু শ্রমিক সংগঠন থাকলেও উক্ত ৩টি ইউনিয়নে সবচেয়ে শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। মোট শ্রমিকের সংখ্যা ২০ হাজারেরও উর্দ্ধে।