হোম অন্যান্যসারাদেশ ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি, সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা

ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি, সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 102 ভিউজ

অনলাইন ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিনের নাম নাসিরনগর উপজেলা থেকে মুছে ফেলার হুমকির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে নৌকার পরাজিত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

রোববার (২২ জানুয়ারি) নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৩ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী নাসিরনগর থানায় এই এজাহার দায়ের করা হয়। যা পরবর্তীতে নাসিরনগর থানার মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, ‘গত ২২ ডিসেম্বর নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তৎকালীন সংসদ সদস্য বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের নাম নাসিরনগর থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেন। এতে ওই ব্যক্তি (ফরহাদ হোসেন) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০০৮ এর ১১ বিধির বিধান লঙ্ঘন করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দিয়েছে। বর্ণিত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৩ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০০৮ এর বিধি-১৮ এর অধীন এজাহার দায়ের করার জন্যে নিম্ন স্বাক্ষরকারী (নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম) কে নির্দেশনা দেন।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে উপ-সচিব (আইন) মো. আব্দুছ সালাম এক চিঠিতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অনতিবিলম্বে এজাহার দায়ের করার নির্দেশ দেন। ওই চিঠিতে বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের বিরুদ্ধে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন পাঠানোর কথা উল্লেখ করে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার দায়ের করার জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এর আগে নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিনের নাম নাসিরনগর থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেয়ার অভিযোগে সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরুদ্দোজা মো. ফরাহদ হোসেনকে ‘তলব’ করেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। পরে গত ২৩ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে ‘চেয়ারম্যানের নাম মুছে দিতে চান এমপি, হাত ভাঙার হুমকি আওয়ামী লীগ নেতার’ শিরোনামে খবর প্রকাশ হলে সেটির সূত্র ধরে তাকে তলব করেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। পরে খবরটি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

পরে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি তলব করার পর তৎকালীন সংসদ সদস্য বদরুদ্দোজা মো. ফরাহদ হোসেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারি জজ মোহাম্মদ রেজাউল হকের কাছে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহাগ রানা বলেন, রোববার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দেয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এর আগে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল হকের কাছে সশরীরে হাজির হয়ে ফরহাদ হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তার প্রদত্ত বক্তব্যের খণ্ডিত অংশের বিকৃত করে মিডিয়া কুচক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে। লিখিত জবাবে তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানার অঙ্গীকার করেন।

লিখিত জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, তার বক্তব্যের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডের কারণে তার নাম জনগণের হৃদয় থেকে মুছে যাবে বুঝিয়েছেন। তিনি কাউকে কোনও প্রকার হুমকি দেননি। পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে নেয়া নির্বাচনী তদন্ত কমিটির পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। পত্রিকার রিপোর্ট মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিধায় কারণ দর্শানোর দায় থেকে অব্যাহতি চান তিনি।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ৪৩ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের বহিষ্কৃত উপদেষ্টা (কলার ছড়ি প্রতীক) সৈয়দ এ.কে একরামুজ্জামানের কাছে। শিল্পপতি একরামুজ্জামান ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম ফরহাদ হোসেন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ১৮৯ ভোট।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন