অনলাইন ডেস্ক:
আরারও ভাঙছে খুলনা নদী বন্দরের ৫ নম্বর ঘাটের প্রতিরক্ষা বাঁধ। ২০১৮ সালে সিট পাইলিং ভেঙে যাওয়ার পর ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ঘাট মেরামত করা হয়। ২০২২ সালে একই স্থানে ঘাটের প্রায় ২০০ ফুট সিট পাইলিং ধসে নদীতে বিলীন হয়। এতে লোড-আনলোডের ইয়ার্ড ভেঙে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দর ভবনও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনার ভৈরব নদের প্রতিরক্ষা প্রাচীরে প্রথম ভাঙন দেখা দেয় ২০১৮ সালে। মেরামত না করায় ২০ ফুটের ভাঙন প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ভাঙন মেরামতে বরাদ্দ দেয়া হয় আড়াই কোটি টাকা। ২০২১ সালে মেরামতের কাজ শেষ হয়। কিন্তু এক বছরের মধ্যে একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেয়। এবারও যথাসময়ে সংস্কার না হওয়ায় ভাঙন ছড়িয়েছে ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে। যত দিন যাচ্ছে, ভাঙন বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে পণ্য ওঠা নামার কাজ। এতে শ্রমিকদের আয় কমার পাশাপাশি সংকটে পড়েছে জীবন-জীবিকাও।
শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ঘাটে ২৫-৩০টি কার্গোতে সার ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল লোড আনলোড করা হয়। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ঘাটে প্রথম বার ভাঙন দেখা দেয়। এরপর থেকে ঘাটের ওই অংশে মালামাল ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। এতে শ্রমিকদের আয় কমে যাচ্ছে।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, ভাঙন ছোট থাকলে মেরামতের জন্য অল্প টাকা বরাদ্দ হয়। সামান্য ওই টাকায় ঠিকাদার, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা কেউই লাভবান হন না। ভাঙন বড় হলে বরাদ্দ বেশি আসে। এতে সব পক্ষই লাভবান হয়। মূলত এ কারণেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকৌশল বিভাগ জানায়, খুলনা নদীবন্দর এলাকার ঘাটে ১৯৬৩ সালে লোহার পাত দিয়ে পাইলিং, পরে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ওই সময়ের নকশা খুঁজে পাওয়া যায় না। এ কারণে ভাঙন দেখা দিলে মেরামতে অনেক সময় লাগছে।
খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের কোষাধ্যক্ষ চৌধুরী মিনহাজ-উজ জামান সজল বলেন, ‘ভাঙন মেরামতের পর কয়েক দফা বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ঘুরে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। চলতি অর্থ বছরে ঘাটটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। লোড-আনলোড না হওয়ায় আয় হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে খুলনা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘাট সংস্কারে একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। সেটি অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে ভাঙন মেরামত কাজ শুরু হবে।