বাণিজ্য ডেস্ক:
আবারও ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এদিকে নতুন আলুতেও বাজারে আসছে না স্বস্তি। আবার রমজান আসার অনেক আগেই চড়তে শুরু করেছে ডালের দাম। অন্যদিকে দুই সপ্তাহে নানা পদের মসলার দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার মাসখানেক হতে চলল। কিছুদিনের ব্যবধানে দামে ওঠানামা হলেও তা নামেনি ভোক্তার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে। এর মধ্যে সপ্তাহ ব্যবধানে আবার কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা দাম বেড়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ঠেকল ৯০ টাকায়। এ ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের যুক্তি, মোকামেই দাম বেশি।
যে দেশি পেঁয়াজ গরম করে রেখেছে রাজধানীর বাজার, বিপণন অধিদফতর বলছে, সেই পণ্যটির উৎপাদন খরচ কেজিতে ২৪ টাকার কম। গত বছর এ সময় বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।
সংস্থাটির দেয়া হিসাবে, প্রায় ১৬ টাকা উৎপাদন খরচের এক কেজি আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে ৩৬ আর খুচরায় ৪০ টাকা দরে। তবে দাম কমার কথা জানিয়ে এক বিক্রেতা বলেন, আলু ৩৮ টাকা কেজি দরে কিনেছি। এখন খুচরায় বিক্রি করছি ৪০ টাকা দরে।
তবে দাম বেশি থাকায় নাজেহাল এক ক্রেতা বলেন, ভরা মৌসুমে এখন আলু উঠতেছে। তা সত্ত্বেও বাজারে দাম ৪২ টাকা।
এদিকে রমজানের বাকি আরও দেড় মাস। এর মধ্যেই মুদিখানায় চড়তে শুরু করেছে ডালের দাম। দুই সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। রাজধানীর বাজারে প্রতিকেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, ছোলা টাকা ১১০, খেসারি ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা, ডাবলি ৮০ টাকা এবং বুটের ডাল ১১০ টাকা। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও ছোলার কেজি ছিল ৯০ টাকা, খেসারি ৮০ টাকা, মুগডাল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, ডাবলি ৬০ টাকা এবং বুটের ডাল ৯০ টাকা।
দাম বৃদ্ধির রকেটে যেন আকাশ ছুঁতে চায় কারওয়ানবাজারের মসলার বাজার। ১৫ দিনের ব্যবধানে এলাচ-লবঙ্গের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। গোলমরিচ, দারুচিনির দামও বাড়তি। এর কারণ জানেন না খোদ বিক্রেতারাও। তাদের দাবি, সবকিছু জানেন আমদানিকারকরা।
এক বিক্রেতা বলেন, আগে লবঙ্গের কেজি ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এখন তা ঠেকেছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। আগে গোল মরিচ ছিল ৭০০ টাকা। এখন ৮০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারে প্রতিকেজি এলাচের দাম ছুঁয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা, দুই সপ্তাহ আগে ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে দারুচিনির কেজি ঠেকেছে ৪৬০ টাকায়। এ ছাড়া জিরার কেজি বর্তমানে ৮০০ টাকা। বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস এক ক্রেতা বলেন, ‘এখন আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের অবস্থা তো নাজেহাল।’
ক্রেতাকে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে সবজিও। বেগুনের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, প্রতিপিস লাউয়ের দাম ১০০, ফুল-বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং কেজি শিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০ টাকা। তা ছাড়া শালগম ৪০ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, মটরশুঁটি ১১০ টাকা ও টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।